বিশ্বকাপের আগে ইবোলা ভাইরাসের প্রার্দুভাবের কারণে বড় ধাক্কা খেল ডিআর কঙ্গো। দেশটিতে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বকাপের আগে রাজধানী কিনশাসায় নির্ধারিত প্রস্তুতি ক্যাম্প বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) পরিস্থিতিটিকে ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত রোগটিতে ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে।
ডিআর কঙ্গো জানিয়েছে, তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প এখন হবে বেলজিয়ামে। সেখানে ৩ জুন ডেনমার্কের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আফ্রিকার দলটি। এরপর ৯ জুন স্পেনে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে তাদের। বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপ থেকে পর্তুগাল, কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গো। বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন।
ডিআর কঙ্গো দলের মুখপাত্র জেরি কালেমো সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিককে বলেন, ‘কিনশাসায় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প বাতিল করা হয়েছে। এখন ক্যাম্প হবে বেলজিয়ামে।’ ফিফার এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, ‘ইবোলা পরিস্থিতি নিয়ে ফিফা অবগত এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ডিআর কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে দলটি প্রয়োজনীয় সব স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নির্দেশনা পায়।’
ইবোলা সংক্রমণ ঠেকাতে জরুরি জনস্বাস্থ্যবিধি জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, সর্বশেষ ২১ দিনের মধ্যে ডিআর কঙ্গো, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদান সফর করেছেন—এমন কেউ আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানেও ইবোলা সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।
এই নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এটি বাড়ানো হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর থাকে, তাহলে ডিআর কঙ্গো তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপেও সমর্থকদের বড় অংশের উপস্থিতি ছাড়াই খেলতে বাধ্য হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধকেন্দ্র (সিডিসি) প্রকাশিত আদেশে বলা হয়েছে, ‘ইবোলা রোগ যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ার যে গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে, তা থেকে দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে এই নির্দেশনা প্রয়োজনীয়।’
বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর প্রথম ম্যাচ ১৭ জুন, প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, ম্যাচটি হবে হিউস্টনে। এরপর ২৩ জুন গুয়াদালাহারায় কলম্বিয়ার বিপক্ষে এবং ২৭ জুন আটলান্টায় উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে তারা।
ফিফা জানিয়েছে, তারা এখনো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে, যাতে ‘নিরাপদ ও সুরক্ষিত’ভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করা যায়। সংস্থাটি বলেছে, ‘এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে জড়িত সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষাই ফিফার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে ডিআর কঙ্গো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর আগে থেকেই নানা বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া জাতীয় দলের প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। ডিআর কঙ্গোর ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল এই সপ্তাহেই ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের সবাই দেশের বাইরে বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। দলের মুখপাত্র জেরি কালেমো জানিয়েছেন, স্কোয়াডের কোনো খেলোয়াড়ই দেশে ফেরেননি।
ডিআর কঙ্গো জাতীয় ফুটবল দল ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে (তৎকালীন নাম ছিল জায়ারে) প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ৫২ বছর পর এবার বিশ্বকাপে ফিরেছে। এবার যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসরটি হবে তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।