সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি আবহাওয়া নিয়ে একটি পোস্ট দেখা যাচ্ছে। পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ‘উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে… ২৯ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, কোনো ব্যক্তি যেন বাইরে (খোলা আকাশের নিচে) না যান, কারণ আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।…নিচে দেওয়া হয়েছে বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিম্নলিখিত বিষয়ে সতর্ক করছে।’

পোস্টের শেষে লেখা রয়েছে অনুগ্রহ করে এই তথ্যটি শেয়ার করুন, কারণ অন্যরাও হয়তো এটি জানেন না এবং প্রথমবারের মতো পড়ছেন।

That's Vogue By Sabrin নামে একটি ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, ১৯ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়েছে, মন্তব্য প্রায় এক হাজার এবং ৮ হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে।

পেজটির ফলোয়ারের সংখ্যা এক লাখ ৮১ হাজার। পেজটি নারীদের পোশাক বিক্রি নিয়ে কনটেন্ট বানায়। আবহাওয়া–সংক্রান্ত পোস্ট নিয়ে পেজটির অ্যাডমিন সাবরিন সুলতানা বলেন, বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেল থেকে পাওয়া এই পোস্ট তিনি অন্যদের সতর্ক করতে শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, ফেসবুকে অনেকেই আবহাওয়া নিয়ে এই পোস্ট দিয়েছেন।

 

আবহাওয়াবিষয়ক পোস্টটি সত্য নয় বলে তাঁকে জানায় প্রথম আলোর ফ্যাক্ট চেক বিভাগ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক বছর ধরে কাজ করছেন, যদি তিনি ভুল তথ্য ফেসবুক পেজে পোস্ট করে থাকেন তাহলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবে।

যে টিভি চ্যানেলটির কথা তিনি বলেছেন ফ্যাক্ট চেক করে দেখা গেছে চ্যানেলটি এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি।

Hater chowa-হাতের ছোঁয়া নামে আরেকটি পেজের ফলোয়ারের সংখ্যা তিন লাখ ৩১ হাজার। নারীদের পোশাক ও জীবনযাপন–বিষয়ক কনটেন্ট বানানো হয় এই পেজে। আবহাওয়া নিয়ে ভুয়া পোস্ট নিয়ে পেজটির অ্যাডমিন বশিরুল আলম তপন বলেন, শুধু তাঁরা নন বড় বড় পেজগুলো এটি পোস্ট করেছে। তিনি বলেন, ‘মডারেটর দিয়েছে তাই পোস্ট করা হয়েছে। পোস্ট যদি ভুয়া হয় তাহলে তাদের ভুল হয়েছে।’

 

আবহাওয়ার এই সতর্কবার্তার পোস্ট নিয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অধিদপ্তর বলেছে, এটি পুরোপুরি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর। আসলে, ‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর’ নামে বাংলাদেশে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানই নেই। ফলে এই নামে প্রচারিত সতর্কবার্তার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

 

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম এই বার্তাকে ‘সর্বৈব ভুয়া, মিথ্যা ও ক্ষতিকর’ বলেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কোনো রেকর্ড নেই এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে এমন তাপমাত্রা হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।’ এ ধরনের গুজব ছড়ানো জনমনে অযথা আতঙ্ক তৈরি করে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২৭ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার বদলে কিছুটা কমতে পারে।

ভুয়া সতর্কবার্তাটিতে আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত গরমে মোবাইল ফোন বিস্ফোরিত হতে পারে, গাড়িতে বিভিন্ন জিনিস না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সাপ-বিছা বেরিয়ে আসার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব তথ্যের বেশির ভাগই অতিরঞ্জিত এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন।

মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, কে বা কারা এসব বার্তা ছড়িয়েছে তাঁদের চিহ্নিত করা উচিত এবং দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এ ধরনের তথ্য ছড়ানো খুবই ক্ষতিকর। যে সময়ে ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রার কথা বলা হচ্ছে, সেই সময়ে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক জনগণকে এমন ভুয়া বার্তা শেয়ার না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব