চার দিন আগে অসুস্থ শিশুসন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেইলপাড়ার গৃহবধূ কোহিনুর আক্তার (৩১)। মেয়েকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তির পর ওষুধ আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন কোহিনুর। পরে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়েও তাঁর সন্ধান পাননি।

আজ শনিবার দুপুরে হাসপাতালের লিফট থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও কর্মচারীদের মধ্যে সন্দেহ হয়। এরপর হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা খোঁজাখুঁজি করে লিফটের নিচের একটি গর্তে গৃহবধূর মরদেহ দেখতে পান। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন লাশটি উদ্ধার করেন। মরদেহ বিকৃত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। পরে স্বজনেরা শনাক্ত করেন মরদেহটি চার দিন আগে নিখোঁজ কোহিনুরের।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দীন বলেন, লিফট ত্রুটিপূর্ণ ছিল কি না অথবা অন্য কোনো কারণে ওই নারী নিচে পড়ে গেলেন কি না, তার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে ৪ মার্চ দুপুরে ওই গৃহবধূ লিফটে উঠেছিলেন কি না? উঠলে তাঁর সঙ্গে কে কে ছিলেন?

পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য একই হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন রোগী, তাঁদের অভিভাবক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, সদরের এই হাসপাতালে দৈনিক এক হাজারের বেশি রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি থাকেন ৫০০ জনের বেশি রোগী। ব্যস্ততম একটি হাসপাতালের পঞ্চম তলা থেকে এক নারী নিচে নামার সময় লিফটের গর্তে পড়ে যাবেন আর সেই নারী চার দিন ধরে গর্তে পড়ে থাকবেন, কারও নজরে পড়বে না—এমন তো হতে পারে না। এটা কর্তৃপক্ষের চরম ব্যর্থতা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা দরকার।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব