বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ৩০০ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে এককভাবে সরকার গঠন করতে কমপক্ষে ১৫১ আসন প্রয়োজন। দুই শতাধিক আসন পাওয়ায় বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
ভোটের পর এখন নতুন মন্ত্রিসভার অপেক্ষা। গেজেট জারির পর শপথ নেবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর শুরু হবে নতুন সরকারে গঠনের প্রক্রিয়া। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিএনপি সরকারে কতজন মন্ত্রী থাকবেন এবং কে কোন দপ্তরের মন্ত্রী হচ্ছেন, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলা হলেও একটি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন দপ্তরে দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মন্ত্রিত্ব দিতে আগ্রহী দলটি।
এ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পেতে চলেছেন, তা নিয়েও দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে।
বিএনপির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে বিজয়ী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দায়িত্ব নিতে পারেন। তিনি এর আগে বিএনপি সরকারের আমলে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকেও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ুন কবিরকেও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এবং বর্তমানে মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীকেও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বিএনপির তরুণ নেতাদের মধ্য থেকেও নতুন মুখ আসতে পারে।
তবে চূড়ান্তভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব কে পালন করবেন, সে জন্য আরও দু-একদিন অপেক্ষা করতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ ফলাফল ঘোষণা করেন।