প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুনের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন। আজ শনিবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ কথা জানান।
নিহত ও আহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিহতদের পরিবারকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২ লাখ করে টাকা দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত ৫ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, অনেকে নিখোঁজ শোনা যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর সবকিছু জানা যাবে।’
কারখানাটির মালিক ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা জনবহুল এলাকায় যাতে না থাকে, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হবে। আহতদের চিকিৎসার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।’
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, বেলা ১টা ১৩ মিনিটে কদমতলীর ওই গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ ছাড়া এ ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটের চেষ্টায় প্রায় সোয়া এক ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
‘আমার মিম গ্যাসের তাপের কারণে মারা গেছে। কারখানার সুপারভাইজার তাদের বের হতে দেয় নাই। সুপারভাইজার বলছিল আগুন কম, নিভা যাইব; তোমরা বইসা থাকো এখানে। আমার মিম বের হওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করছে, পারে নাই।’—এভাবেই আহাজারি করছিলেন কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় মারা যাওয়া মিমের বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন খান।
আজ শনিবার কদমতলী চৌরাস্তার আল বারাকাহ হাসপাতালের পাশের গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মরদেহগুলো এতটাই পুড়ে গেছে যে কে নারী, কে পুরুষ তা প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরে মরদেহগুলোর মধ্যে তিনজন নারী বলে পুলিশ নিশ্চিত করে। এই তিনজনের একজন মিম আক্তার পাখি।
আজ বেলা ১টা ১১ মিনিটে আগুন লাগে। দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।
বিকেল চারটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম পাঁচটি মরদেহ উদ্ধারের এ তথ্য জানান। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের (মিটফোর্ড) মর্গ থেকে জানা যায়, পাঁচজনের মধ্যে এ পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে একজনের পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। অন্য দুজনের পরিবারের কেউ এখনো যোগাযোগ করেনি। বাকি দুজনের লাশ এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
মিমের বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন খান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মিমের শরীরের কোনো অংশ পুড়ে যায়নি। তার শরীরের জামাকাপড়েও পোড়া দাগ নেই। সে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা গেছে। যারা কারখানার ভেতরে ছিল, তাদের বের হওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় মারা যায়।’
প্রতিদিন মিম দুপুরে বাসায় ভাত খেতে আসত। সোয়া একটার দিকে বাসায় এসে ভাত খাওয়ার কথা তার। ঠিক এর তিন-চার মিনিট আগেই আগুন লাগার খবর শুনতে পান দেলোয়ার। তিনি বলেন, কারখানার ভেতরে অনেকগুলো দরজা ছিল। সুপারভাইজার তাদের বের হতে না দেওয়ায়, কেউ বের হতে পারেনি। কয়েকজন দেয়াল টপকে ওপর দিয়ে বের হয়ে আসে।
দেলোয়ার হোসেন খান কেরানীগঞ্জের কদমতলীর ওই গ্যাসলাইটার কারখানার পাশে একটি বাসায় দারোয়ানের কাজ করেন। সেই বাসাতেই বাবা–মেয়ে থাকতেন। আজ সকাল সাতটার দিকে কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন।
দেলোয়ার বলেন, ‘আগুন লাগার সময় আমি বাসার পানির পাম্প চালু করছিলাম। তখন একজন বলল আগুন লাগছে, আমি জিজ্ঞেস করলাম কোথায়? বলল ওই পারে। আমার বাসা থেকে চার-পাঁচটা বাসার পর ওই কারখানা। তারপর মিমরে কল দিলাম, রিং বাজে। দুই-তিনটা রিং হলো। মিম কল ধরে না। এদিক দিয়ে আমি দৌড়ে দ্রুত যাওয়ার চেষ্টা করলাম। মানুষের ভিড়ে সামনের দিকে আগাতে পারলাম না আর। আমার মাইয়া আর আইব...না, আমার মাইয়াকে ওরা মাইরা ফালাইছে।’
মিমের ডাকনাম পাখি। কারখানায় সবাই তাকে পাখি নামে চেনে। বয়স আনুমানিক ১৭ বছর। তার চার বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। স্বামী কারাগারে। সন্তানকে শাশুড়ির কাছে রেখে বাবার সঙ্গে এখানে থেকে চাকরি করছিল মিম। এই কারখানায় তিন থেকে চার মাস কাজ করছিল। ঈদের ছুটির পর গত রোববার কাজে যোগ দেয়।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এই বাবা আহাজারি করছিলেন আর বলছিলেন, প্রতিদিন সকালে কারখানায় মেয়েকে নাশতা দিতে যেতেন। আজ মেয়ে হলুদ রঙের জামা পরে এসেছিল।
ঢাকা
কুমিল্লায় একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে হোস্টেলের কক্ষ থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে সহপাঠীরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নওশিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজারসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট।
সহপাঠীদের অভিযোগ, নওশিন মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষকের রোষানলে ছিলেন। তাঁকে প্রতিনিয়ত মানসিক চাপে রাখা হতো। একটি বিষয়ে পাঁচবার পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। এতে মানসিক চাপে ১০৯টি ট্যাবলেট সেবন করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
আজ শনিবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। নওশিনের সহপাঠীদের অভিযোগ, কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের একজন শিক্ষকের রোষানলে বারবার ফেল করতে হয়েছে নওশিনকে। এটি তাঁর ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে। ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
তবে ঘটনার পর বিষয়টি আলোচনায় আসার পর অ্যানাটমি বিভাগের ওই শিক্ষক গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন। তিনি কারও কল ধরছেন না। এ জন্য তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
খুলনার সরকারি করনেশন গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে কুমিল্লার বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন অর্পিতা নওশিন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নওশিনের সহপাঠীরা বলেন, প্রথম বর্ষ থেকেই কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের ওই শিক্ষকের রোষানলে পড়েন নওশিন। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় অন্যান্য সব বিষয়ে পাস করলেও অ্যানাটমিতে ফেল করেন তিনি। এরপর গত তিন বছরে আরও চারবার একই বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও প্রতিবারই অকৃতকার্য হন। প্রথম বর্ষে থাকতেই প্রকাশ্যে তাঁকে ফেল করানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে ওই শিক্ষক এমন আচরণ করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তাঁদের ব্যাচের তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। একই সেশনের অন্য শিক্ষার্থীরা এখন পঞ্চম বর্ষে পড়লেও নওশিন প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষাতেই আটকে ছিলেন।
নওশিনের ভাই শাহরিয়ার আরমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বোনের আত্মহত্যা করার মতো মানসিকতা ছিল না। কলেজের মানসিক চাপই তাকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে। প্রথম বর্ষ থেকেই তাকে মানসিকভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে। সবাই পাস করলেও আমার বোনকে একটি বিষয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তার সমস্যা কী, সেটাও কেউ বলেনি।’ তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবারও তার সঙ্গে কথা হয়েছে। ফরম পূরণের জন্য টাকা চেয়েছিল। আমি আশ্বস্ত করেছিলাম টাকা পাঠাব। এমন খবর পাব, কখনো ভাবিনি।’
আজ বিকেলে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৭ মিনিটে ওই শিক্ষার্থীর অসুস্থতার খবর পাই। খবর পাওয়ার পরপর জরুরি বিভাগে থাকা সব চিকিৎসককে প্রপার ট্রিটমেন্টের অনুরোধ জানাই। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানায় ওই ছাত্রী মারা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি ও পরিচালক হাসপাতালে ছুটে যাই। কিন্তু আমাদের ছাত্রীকে আর বাঁচাতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা থেকেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে শিক্ষার্থীর ভাই বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আমরাও চরমভাবে শোকাহত।’
অ্যানাটমি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে। এ জন্যই আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। যদি এ ঘটনায় কেউ যুক্ত থাকে, তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর পরিবার বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। এরপরও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নিতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তার সরকারের সকল উপদেষ্টাকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কারকে কেন্দ্র করে যা হচ্ছে, তা অপ্রত্যাশিত নয়। এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পর থেকে, ঐকমত্য কমিশন থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম। বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচন চায়।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের পর বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর আর কিছুকে তোয়াক্কা করছে না। তারা গণভোটের গণরায় বাতিল করে দিয়েছে। এখন শুনতে পাচ্ছি, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের ১০-১১টি তারা সংসদে আনছে না। তারা সেগুলোকে আইনে পরিণত করবে না। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ রয়েছে। এগুলো বাতিল করে তারা আসলে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেখানে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করতে চাচ্ছে।
তারা সংসদে সমাধান চেয়েছিলেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংসদে যেহেতু উপযুক্ত সমাধান আমরা পাচ্ছি না, তাই রাজপথে অবস্থান নিতে হচ্ছে। আমরা চাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ হোক, অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করা হোক। বিএনপি সরকার বুঝতে পারছে না যে সামনে অর্থনৈতিক মন্দা আসছে। এ অবস্থায় সরকারের ওপর যদি জনগণের আস্থা না থাকে, বিএনপি সরকার পরিচালনা করতে পারবে না। যুদ্ধের কারণে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে, তাতে দলগুলোর ঐক্য দরকার ছিল।
বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সবাইকে অধ্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি এ-ও বলেন, যারা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে ছিলেন ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা এই অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন। এখন যে বাতিল হচ্ছে, এগুলো নিয়ে তাদের কথা বলতে হবে। ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে। তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছেন। এখন এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সংস্কার হবে না, তারা কোনো কথা বলবেন না, তারা যার যার ক্যারিয়ারে ফিরে যাবেন— এটা হবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে। মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদেরকে ক্ষমতা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদেরকে হতাশ করেছে। তারপরও যতটুকু হয়েছে, তা ধরে রাখার জন্য তাদেরকেও রাজপথে নামতে হবে।
রাজধানীর কদমতলীর একটি গ্যাসলাইট কারখানায় আগুন লেগেছে। দেড় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।
আজ শনিবার দুপুরে কদমতলী চৌরাস্তার আল বারাকা হাসপাতালের পাশে ওই কারখানায় আগুন লাগে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের এক কর্মকর্তা বলেন, বেলা ১টা ১১ মিনিটে তাঁরা আগুন লাগার খবর পান। সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করে। বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
কীভাবে আগুন লেগেছে এবং এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দ্বিতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ ও গ্রামবাসীসহ অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন।
আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. মশিউর রহমান। তিনি ভাঙ্গা থানার কনস্টেবল পদে কর্মরত বলে নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দিপু। তবে আহত অন্য ব্যক্তিদের নাম–পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আজ শনিবার সকাল সোয়া সাতটায় শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ সদস্যদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের জানান, সংঘর্ষে দুপুর একটা পর্যন্ত ২৮ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবারের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ সকালে সেখানে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এর আগে গতকাল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর প্রায় ১২ ঘণ্টা পর আবার সংঘর্ষে জড়ায় দুটি পক্ষ।
আজ সকালে শুরুতে হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রামের বাজার এলাকায় দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে এক পক্ষে মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন এবং অন্য পক্ষে একই ইউনিয়নের খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য নিয়ে হামিরদী ইউনিয়নের খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া নামের তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ আছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। কেউ বলছেন, ফুটবল খেলা উপলক্ষে মাইকিংকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়; আবার কেউ বলছেন, ঈদের চাঁদরাতে মনসুরাবাদ বাজারে একটি দোকানের সামনে পটকা ফাটানো নিয়ে বিরোধের জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
এ বিরোধের জেরে গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে খাপুরা গ্রামের এক ব্যক্তিকে মনসুরাবাদ বাজারে মারধর করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় এদিন বিকেল ও সন্ধ্যায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও আজ আবারও সংঘর্ষ হলো। প্রথমে সংঘর্ষ মনসুরাবাদ বাজার এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তা ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে জড়িত পক্ষগুলো দেশি অস্ত্র ও ঢাল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন অবস্থান নেন বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। অন্যদিকে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের বাসিন্দারা হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হন।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এখনো থমথমে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা পলাশ সাহা জানান, সংঘর্ষের প্রায় ৫ ঘন্টা পর দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে সেনাবাহিনী, র্যাব, ডিবি ও পলিশের অতিরিক্ত সদস্যরা এসে উভয়পক্ষকে হটিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভাঙ্গার হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোকন মিয়া বলেন, অন্য তিনটি গ্রামের তুলনায় মনসুরাবাদ গ্রামটি বড় ও জনসংখ্যাও বেশি। বাজারটি তিন গ্রামের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাসস্ট্যান্ডটি মনসুরাবাদ গ্রামের দখলে রয়েছে। ছোটখাটো ঘটনা থেকে শুরু হয়ে এসব সংঘর্ষ পরে বড় আকার ধারণ করে। স্থানীয় আধিপত্যের কারণে তিনটি গ্রাম এক হয়ে মনসুরাবাদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, তরুণদের মধ্যে নানা ছোট বিষয় নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত হয়—কখনো ইভটিজিং, কখনো খেলাধুলা, আবার কখনো মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে। এসব ঘটনাই পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এ সংঘর্ষে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন জানিয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম বলেন, ‘সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে ডিবি ও থানা–পুলিশের দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।’