ঘোষণাটা আগেই দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। এবার বিস্তারিতভাবে তা জানালেন গ্রাউন্ডস বিভাগের প্রধান খালেদ মাসুদ। আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, সারা দেশে মোট ১১টি ক্রিকেট হাব করছে বিসিবি।

এর মধ্যে প্রথম ধাপে চালু হওয়া ৮টি হাবে মোট ১৩৭টি উইকেট তৈরি করার পরিকল্পনা আজ তুলে ধরেছেন খালেদ মাসুদ। হাবগুলো হলো খুলনা, বরিশাল, ফতুল্লা, কক্সবাজার, বগুড়া, রাজশাহী বিকেএসপি ও পূর্বাচল।

উইকেটগুলো স্থানীয় কিউরেটররাই তৈরি করবেন জানিয়ে খালেদ মাসুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিউরেটরদের সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করেছি। সবাইকে শেয়ার করেছি (কীভাবে করতে চাই)। আমরা শুধু বিসিবি থেকে তাঁদের সাপোর্ট দেব—হয়তো মাটি দিলাম বা এমন। বাকি কাজটা স্থানীয় কিউরেটররাই করবেন। সব দায়িত্ব তাঁদের কাছে থাকবে।’

বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী খুলনায় ১৫টি, বরিশালে ২৩টি, কক্সবাজারে ৮টি, বগুড়ায় ১০টি, রাজশাহীতে ১২টি, ফতুল্লায় ১৩টি, বিকেএসপির ৩ ও ৪ নম্বর মাঠে ১৯টি, পূর্বাচলে ১৩টি উইকেট হবে। অনুশীলন, মূল ম্যাচ ও আউটার মাঠে এ উইকেটগুলো আগামী মে–জুন মাসের মধ্যেই তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন খালেদ মাসুদ।

এ উইকেটগুলো তৈরি হলে খেলার আরও ভালো পরিবেশ, খেলার মান বৃদ্ধি, ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা ও খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি বাড়বে বলে মনে করে বিসিবি। প্রাথমিকভাবে চালু হওয়া হাবগুলোতে রোলার, ঘাস কাটার মেশিন, পিচ কাভার, উইকেটের জন্য মাটি ও কংক্রিটের উইকেট দেবে বিসিবি। এগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় ক্রিকেট একাডেমি, স্কুল–কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ, উপজেলা ও জেলার মাঠগুলোকে বিসিবির পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদ মাসুদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবি পরিচালক আবদুর রাজ্জাক। খালেদ মাসুদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী মৌসুমে জেলাভিত্তিক লিগগুলো আয়োজন সহজ হবে বলে মনে করেন তিনিও। আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘ক্রিকেটীয় দিক থেকে দেখলে এটা একটা বিশাল উদ্যোগ। এটাতে আমরা সফল হতে পারলে প্রথম ধাপটা সফলভাবে সম্পন্ন হবে। যদি আমরা জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারি, পরের মৌসুম থেকে হয়তো (ঢাকার বাইরের) লিগগুলো খুব ভালোভাবে শুরু করা যাবে।’

আগেই টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করে ফেলা বাংলাদেশ নারী দল আজ নেমেছিল বাছাইয়ে নিজেদের শেষ ম্যাচে। নেপালের আপার মুলপানিতে হওয়া ম্যাচটিতে ডাচদের ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।

প্রথমে ব্যাট করে নেদারল্যান্ডস করে ৬ উইকেটে ১০২। বাংলাদেশ ২০ বল হাতে রেখে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। অধিনায়ক নিগার সুলতানা ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন।

রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। দুই ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ফেরেন ৬ রানের মধ্যে। এরপর তৃতীয় উইকেটে শারমিন আক্তারকে নিয়ে ৪২ রানের জুটি গড়েন নিগার। শারমিন ২৮ বলে ১৩ রান করে আউট হলে নিগারের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সোবহানা মোস্তারি।

এ জুটিই বাংলাদেশকে নিয়ে যায় জয়ের পথে। নিগার-মোস্তারির জুটিতে ৩৭ বলে যোগ হয় ৫৭ রান। নিগার ৭ চারে ৪৪ বলে ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন। আন্তর্জাতিকটি নারী টি-টুয়েন্টিতে এটি তাঁর দশম ফিফটি। তাঁর সঙ্গে মোস্তারি মাঠ ছাড়েন ২৩ বলে ৩৩ রান করে। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছয়।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নামা নেদারল্যান্ডসকে শুরুতেই বড় চাপে ফেলেন বোলাররা। মাত্র ২৩ রানের মধ্যে দলটির ৫ উইকেট তুলে নেন নাহিদা-রাবেয়া-মারুফারা। নাহিদা ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ১০ রানে নেন ৩ উইকেট। নেদারল্যান্ডসকে শুরুর বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করে রবিন রাইকে ও সানিয়া খুরানার ষষ্ঠ উইকেট জুটি।

ডাচদের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল
ডাচদের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল, আইসিসি
 

শেষ ওভারে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে দুজনের জুটিতে যোগ হয় ৭৮ রান। রাইকি ৩৯ রান করে আউট হলেও খুরানা অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে। তবে শেষ পর্যন্ত ১০২ রানের সংগ্রহ দলটির জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশ জিতে গেছে বড় ব্যবধানে।

২০২৬ আইসিসি নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ ৭ ম্যাচ খেলে ৭টিতেই জিতল। নেদারল্যান্ডস জিতেছে ৫টিতে। আগামী জুনে ইংল্যান্ডে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড এরই মধ্যে জায়গা নিশ্চিত করেছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নেদারল্যান্ডস নারী দল: ২০ ওভারে ১০২/৬ (খুরানা ৪৩*, রাইকি ৩৯ নাহিদা ৩/১০, মারুফা ১/১৪)। বাংলাদেশ নারী দল: ১৬.৪ ওভারে ১০৫/৩ (নিগার ৫০*, মোস্তারি ৩৩* সেইগার্স ১/৯)। ফল: বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ৭ উইকেটে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: নাহিদা আক্তার।

বাংলাদেশের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া ভারতের ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজক হওয়ার প্রচেষ্টায় প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, খেলাধুলায় রাজনীতির অনুপ্রবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কড়া মনোভাবই ভারতের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনে রূপ নেয়। ভারতে নিরাপত্তাশঙ্কায় টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার কথা জানিয়ে ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে ভেন্যু বদলের অনুরোধ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২১ জানুয়ারি বোর্ডসভার পর আইসিসি জানায়, বাংলাদেশকে পূর্বসূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় তাদের বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কা।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে ভারতেই খেলার কথা বলার সিদ্ধান্তটি আইসিসির। তবে এ বিষয়ে বিসিসিআইয়েরও হাত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর না করতে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আইসিসিতে তদবির করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে লেখা হয়, ‘আইসিসি কাগজে-কলমে স্বাধীন হলেও ভারতের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইতিহাস তাদের পুরোনো। ২০২৪ বিশ্বকাপে আর্থিক ও সম্প্রচার স্বত্বের খাতিরে ভারতকে গায়ানায় সেমিফাইনাল খেলার আগাম নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে বেশ সমালোচনাও হয়।’

দুবাইয়ে অবস্থিত আইসিসি সদর দপ্তর
দুবাইয়ে অবস্থিত আইসিসি সদর দপ্তর, আইসিসি
 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও লেখা হয়, বিসিসিআই আইসিসিতে অনেক প্রভাবশালী এবং ভারত সরকারের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ আগে বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন; তাঁর বাবা অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এমনকি আইসিসির বর্তমান প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা আগে জিও-স্টারের স্পোর্টস প্রধান ছিলেন, যে প্রতিষ্ঠানটি ভারতে আইসিসির সব ইভেন্টের একচেটিয়া সম্প্রচারের স্বত্বাধিকারী।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজে সময়ে এই রাজনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে ভারত। গত মাসে দিল্লির ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এখন ভারতের পাখির চোখ ২০৩৬ সালের আহমেদাবাদ অলিম্পিক। যেখানে তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কাতার।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রতি সহনশীলতা আইসিসির চেয়ে কম। গার্ডিয়ানকে আইওসির একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্য দেশগুলো বয়কট করতে পারে, এমন কোনো ঝুঁকি থাকলে ভারতকে গেমস আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়াটা আইওসির জন্য প্রায় ‘অকল্পনীয়’। অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী, ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে চলতে হয় এবং অলিম্পিক চলাকালীন যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতপ্রকাশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

আইওসির এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রমাণ গত অক্টোবরেই পাওয়া গেছে। জাকার্তায় বিশ্ব জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি দলকে ভিসা দিতে অস্বীকার করায় ইন্দোনেশিয়াকে অলিম্পিক আয়োজনের দৌড় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়াও ২০৩৬ অলিম্পিকের আয়োজক হতে চেয়েছিল, কিন্তু শুরুতেই তারা হোঁচট খেল।

সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত আইওসির সদরদপ্তর
সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত আইওসির সদরদপ্তর, রয়টার্স
 

১৯০০ সালের পর ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। ২০৩২ ব্রিসবেন আসরেও এটি থাকছে। অলিম্পিকে ক্রিকেটকে ফেরানো হয়েছে মূলত ভারতের বিশাল বাজার ধরার জন্যই। তবে সেটা যেকোনো মূল্যে নয়।

এবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। ভারত গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজেদের ম্যাচগুলো পাকিস্তানে না খেলে দুবাইয়ে খেলেছে। কারণ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচ খেলতে বিসিসিআই পাকিস্তানে দল পাঠাতে রাজি না হওয়ার পর আইসিসি, পিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। সেখানে ঠিক করা হয়, টুর্নামেন্টে ভারতের ম্যাচগুলো হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। একই সঙ্গে বলা হয়, ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে আইসিসি ইভেন্টে ভারত–পাকিস্তানের সব ম্যাচই হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। বর্তমানে দুই প্রতিবেশী দেশ আর দ্বিপাক্ষিক সিরিজেও খেলে না।

গার্ডিয়ানকে আইওসির ওই সূত্র আরও বলেছে, অলিম্পিক আয়োজনের যোগ্য আয়োজক হিসেবে বিবেচিত হতে চাইলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির শক্ত প্রমাণ দেখাতে হবে ভারতকে।

পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটে ৫৪ রান। টি-টুয়েন্টির পাওয়ার প্লেতে ওভারপ্রতি ৯ রানকেও আজকাল কম মনে হয়। তবে তিরুবনন্তপুরমে আজ ভারত সেখান থেকেই কিনা পৌঁছে গেল ২৭১ রানে। এরপর নিউজিল্যান্ডকে ২২৫ রানে অলআউট করে সিরিজে পঞ্চম টি-টুয়েন্টিটা ভারত জিতে গেল ৪৬ রানে। তাতে ৫-ম্যাচের সিরিজটা ৪-১ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শেষ করল সহ স্বাগতিকেরা।

দুই দল মিলে ম্যাচে রান করেছে ৪৯৬। যা আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। নিউজিল্যান্ড রান তাড়ায় আর ২২টি রান বেশি করলেই ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের গড়া ৫১৭ রানের রেকর্ড ভেঙে যেত।

ব্যাট হাতে আজ আগুন ঝরিয়েছেন ঈশান কিষান। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন কিষান, করেছেন ৪৩ বলে ১০৩ রান। প্রায় আড়াই বছর পর ভারতের টি-টুয়েন্টি দলে ফেরা কিষান ছক্কা মেরেছেন ১০টি।

৮০ রান করেছেন নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন
৮০ রান করেছেন নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন, এএফপি
 

তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে নিয়ে ৫৮ বলেই ১৩৭ রান যোগ করেন কিষান। ৩০ বলে ৬৩ রান করে সূর্যকুমারের বিদায়ের পর হার্দিক পান্ডিয়াকে (১৭ বলে ৪২) নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ১৮ বলে ৪৮ রান যোগ করেন কিষান।

রান তাড়ায় প্রথম ওভারে ১৭ রান তুললেও ওভারের শেষ বলে টিম সাইফার্টকে হারায় নিউজিল্যান্ড। এরপর রাচিন রবীন্দ্রকে নিয়ে ঝড় তোলেন ফিন অ্যালেন। দ্বিতীয় উইকেটে ৮ ওভারেই ১০০ রান যোগ করেন দুজন। ৩৮ বলে ৮০ রান করে অ্যালেনের বিদায়ের পর আর আস্কিং রান রেটের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। শেষ দিকে ইশ সোধি ১৫ বলে ৩৩ রান করে শুধু ব্যবধানই কমিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে প্রথমবার ৫ উইকেট পেয়েছেন ভারতের পেসার অর্শদীপ সিং
আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে প্রথমবার ৫ উইকেট পেয়েছেন ভারতের পেসার অর্শদীপ সিং, এএফপি
 

ভারতীয় পেসার অর্শদীপ সিং ৫ উইকেট পেলেও ৪ ওভারে দিয়েছেন ৫১ রান। ৭৬ ম্যাচের আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে এই প্রথম ৫ উইকেট পেলেন এই বাঁহাতি পেসার।

চার বছরের অপেক্ষার অবসান হলো ইয়েলেনা রিবাকিনার। ২০২২ সালের উইম্বলডন জয়ের পর আবার গ্র্যান্ড স্লাম জিতলেন কাজাখস্তানের টেনিস তারকা। আজ মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় শীর্ষ বাছাই আরিনা সাবালেঙ্কাকে ৬-৪, ৪-৬, ৬-৪ গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম জিতলেন মস্কোয় জন্ম নেওয়া পঞ্চম বাছাই রিবাকিনা। সাবালেঙ্কা টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে হারলেন।

ফাইনালে ফেবারিট তকমাটা বরাদ্দ ছিল আরিনা সাবালেঙ্কার জন্যই। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বলছিল ইয়েলেনা রিবাকিনা কঠিন প্রতিপক্ষই শীর্ষ বাছাই সাবালেঙ্কার জন্য। সাবালেঙ্কা ৮-৬ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও দুজনের সর্বশেষ ৯ লড়াইয়ে টানা দুবার জিততে পারেননি কেউ। এক ম্যাচ রিবাকিনা জেতেন তো, পরের ম্যাচে সাবালেঙ্কার জয়। এই হিসাব মেনে চললে এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সাবালেঙ্কারই জয়ের কথা। তবে সেই ধারা ভাঙলেন রিবাকিনা। সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে জিতে গেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন।

ম্যাচের পর পরস্পরকে আলিঙ্গনে বাঁধলেন আরিনা সাবালেঙ্কা ও ইয়েলেনা রিবাকিনা
ম্যাচের পর পরস্পরকে আলিঙ্গনে বাঁধলেন আরিনা সাবালেঙ্কা ও ইয়েলেনা রিবাকিনা, এএফপি
 

২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই এই রিবাকিনাকে হারিয়ে প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছিলেন সাবালেঙ্কা। তিন বছর পর ‘প্রতিশোধ’ নিয়ে নিলেন রিবাকিনা। টানা চার বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ওঠা সাবালেঙ্কা হারলেন সর্বশেষ টানা দুই ফাইনালে।

আজ রিবাকিনা শুরুই করেছিলেন সাবালেঙ্কার সার্ভিস ব্রেক করে। এরপর নিজের সার্ভিসগুলো ধরে রেখে ৩৭ মিনিটেই প্রথম সেটটি ৬-৪ গেমে জিতে নেন ২৬ বছর রিবাকিনা।

ম্যাচের প্রথম গেমেই সাবালেঙ্কার সার্ভিস ব্রেক করেন রিবাকিনা
ম্যাচের প্রথম গেমেই সাবালেঙ্কার সার্ভিস ব্রেক করেন রিবাকিনাএএফপি

দ্বিতীয় সেটে প্রথম আট গেমে যাঁর যাঁর সার্ভিস ধরে রাখেন দুজন। ১০ নম্বর গেমে রিবাকিনার সার্ভিস ব্রেক করে সেটটা ৬-৪ গেমে জিতে নেন সাবালেঙ্কা।

সাবালেঙ্কা রিবাকিনার সার্ভিস ব্রেক করেছেন তৃতীয় সেটের দ্বিতীয় গেমেও। তবে এই সেটেই সাবালেঙ্কার সার্ভিস ব্রেক করে ৩-০ গেমে এগিয়ে যান রিবাকিনা। এরপরই অবশ্য খেই হারিয়েছেন সাবালেঙ্কা। টানা দুই গেমে সার্ভিস ব্রেক করে উল্টো ৫-৩ গেমে এগিয়ে যান রিবাকিনা। সাবালেঙ্কা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি।

সেমিফাইনালে খেলার আশা বাংলাদেশের যুবাদের শেষ হয়ে গিয়েছিল আগেই, আজকের ম্যাচ থেকে তাই পাওয়ার কিছু ছিল না আজিজুল হাকিমদের। তবু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের এই ম্যাচে ৭৪ রানের বড় জয়ই পেয়েছেন তাঁরা।

‘বি’ গ্রুপে তিন ম্যাচের মধ্যে ভারতের বিপক্ষে হার, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত আর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দল। কিন্তু বিপত্তি বাধে বাংলাদেশ যে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জিতেছিল, তারা সুপার সিক্সে না ওঠায়। নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিপক্ষে জেতা ম্যাচের পয়েন্ট যোগ হয়নি।

মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে সুপার সিক্সে ওঠে বাংলাদেশ। এই পর্বের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব–১৯ দলের কাছে হেরে যাওয়ার পরই শেষ হয়ে যায় তাদের সেমিফাইনালের সম্ভাবনা। আজ হারারেতে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই হয়ে যায় শুধু আনুষ্ঠানিকতা।

টুর্নামেন্টে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৫৯ রান করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দল। এবারের বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচে নিজের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি পাওয়া অধিনায়ক আজিজুল হাকিম ৮৭ বলে ৫৯ রানে আউট হন।

এরপর বাকি ব্যাটসম্যানরাও তেমন সুবিধা করতে পারেননি। ৬৮ বলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন রিজান হোসেন।

রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ইকবাল হোসেনের তোপের মুখে পড়া জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব–১৯ দল ইনিংসের ৮ বল বাকি থাকতেই ১৭৯ রানে অলআউট হয়ে যায়।

শুরুর ধাক্কাটা তাদের দিয়ে দেন বাংলাদেশের পেসার ইকবাল হোসেনই। ১০ ওভারের তিনটি মেডেনসহ মাত্র ২৪ রান দিয়ে তিনি ৫ উইকেট তুলে নেন। ৮৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে আরও বড় হারের শঙ্কায় ছিল জিম্বাবুয়ের যুবারা।

তবে দলের হাল ধরেন সিমবারাসে মুডজেনগেরেরের। তাঁর ব্যাটে আসে ১৭১ বলে ৭০ রান আসে। তবে জিম্বাবুয়ের হারের ব্যবধানটাই কেবল কমাতে পেরেছেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দল: ৫০ ওভারে ২৫৩/৯ (আজিজুল ৫৯, রিজান ৪৭, জাওয়াদ ২৫; তাতেন্দা চিমুগোরো ২/৪৯)।

জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব–১৯ দল: ৪৮.৪ ওভারে ১৭৯/১০ (মুডজেনগেরের ৭০, সেল্টন ৪২; ইকবাল ৫/২৪, ফাহাদ ৩/৩৯)।

ফল: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দল ৭৪ রানে জয়ী।

ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৩২৫ রান করে প্রথম শেষ করেছে ইংল্যান্ড। মিচেল স্টার্কের ৬ উইকেট শিকারের দিনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছে জো রুট।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) গোলাপি বলের দিবা রাত্রির টেস্টে দারুণ সূচনা করে অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটিকে দাড়াতেই দেয়নি মিচেল স্টার্ক। প্রথম ওভারের শেষ বলে বেন ডাকেটকে সাজঘরের পথ দেখান এই পেসার।

স্টার্কের তোপের মুখে দাড়াতে পারেনি ওলি পোপ। বোল্ড হয়ে শুন্য রানে একই পথে হাটেন এই ব্যাটার। ৫ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ১১৭ রানের জুটি গড়েন জ্যাক ক্রাওলি ও জো রুট।

৭৬ রান করে নেসেরের বলে আউট হন ক্রাউলি। ফিফটি হাঁকান জো রুটও। স্টার্কের তৃতীয় শিকার হয়ে ফিরেছেন হ্যারি ব্রুক। দুর্দান্ত এক থ্রোতে বেন স্টোকসকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন জশ ইংলিস।

এরপরই জেমি স্মিথের স্টাম্প উপড়ে দিয়েছেন বোল্যান্ড। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন জো রুট। দিন শেষে অপরাজিত থাকেন ১৩৫ রানে। আর ৬ উইকেট শিকার করে ওয়াসিম আকরামকে ছাড়িয়ে গেছেন মিচেল স্টার্ক।

আইপিএলের মিনি নিলামের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের দুই তারকা সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান। আইপিএলের নিলামে বিদেশি ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির ভিত্তি মূল্য দুই কোটি রুপি। সেই ক্যাটাগরিতে আছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। সাকিব আল হাসান আছেন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে। 

এই অলরাউন্ডারের ভিত্তি মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ভারতীয় রুপি। আগামী ১৬ ডিসেম্বর আবুধাবিতে হবে আইপিএলের নিলাম। ১৩ পৃষ্ঠার লম্বা তালিকায় আছে মোট ১ হাজার ৩৫৫ জন ক্রিকেটারের নাম। 

তবে, কেবল ফ্রাঞ্চাইজিদের আগ্রহ আছে এমন ক্রিকেটারদের নাম ডাকা হবে অকশনে। সাকিব, ফিজের সাথে তালিকায় আছেন স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, লিয়াম লিভিংস্টোন, ড্যারিল মিচেল, আনরিখ নর্খিয়া, পাথিরানা, মাহিশ থিকশানা, হাসারাঙ্গার মতো তারকারা।

সবশেষ ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে ভারতকে তাদের মাটিতে টেস্টে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তার ঠিক ২৫ বছর পর আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) আবার ভারতকে তাদের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করল প্রোটিয়ারা।

টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে গুয়াহাটি টেস্টের পঞ্চম দিনের দ্বিতীয় সেশনে ভারতকে ৪০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ২৫ বছর পর সিরিজ জয়ের পাশাপাশি হোয়াইটওয়াশ করার রেকর্ডও গড়ল টেস্টের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ভারতকে অবশ্য ৫৪৯ রানের অসম্ভব টার্গেট ছুড়ে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই রান তাড়া করতে নেমে ২ উইকেট হারিয়ে ২৭ রান তুলে চতুর্থ দিন শেষ করেছিল ভারত। এতো বড় টার্গেট তাড়া করে জেতা ছিল অসম্ভব। তবে পুরো দিন ব্যাটিং করে হার এড়ানো ছিল সম্ভব। কিন্তু সেটাও করতে পারল না স্বাগতিকরা। পুরো দুই সেশনও ব্যাটিং করতে পারল না পান্তের নেতৃত্বাধীন ভারত দল। 

শেষ দিন ২ উইকেটে ২৭ রান নিয়ে খেলা শুরু করেছিল ভারত, তাদের হাতে ছিল ৮ উইকেট। কিন্তু প্রথম সেশনের মাঝামাঝি সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সিমন হারমার জোড়া আঘাত হানেন। এক ওভারেই তিনি কুলদীপ যাদব ও ধ্রুব জুরেলকে বিদায় করেন।

এরপর ঋশাভ পান্তকেও মাঠছাড়া করে হারমার ভারতকে প্রতিরোধ গড়ার আগেই ভেঙে দেন। যদিও সাই সুদর্শন ও রবীন্দ্র জাদেজার কঠিন প্রতিরোধে ভারত কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা জাগায়। প্রথম সেশন শেষে সুদর্শন ১৩৮ বলে ১৪ রানে এবং জাদেজা ৪০ বলে ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

দ্বিতীয় সেশনের পঞ্চম বলেই এই জুটি ভেঙে যায়। সেনুরান মুথুসামির বলে এজ হয়ে এইডেন মারক্রামের হাতে ক্যাচ দেন সুদর্শন। তিনি ১৩৯ বলে ১৪ রানে ফেরেন। এরপর ওয়াশিংটন সুন্দর ও জাদেজা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন ম্যাচ বাঁচানোর। কিন্তু হারমারের বলে মারক্রামকে ক্যাচ দেন ওয়াশিংটন। 

এই ক্যাচ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ফিল্ডার এইডেন মারক্রাম এক টেস্ট ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯ ক্যাচ নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন এবং ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজিঙ্কা রাহানের গড়া কীর্তিকে ছাড়িয়ে যান। এটি ছিল হারমারের পঞ্চম উইকেট। পরের ওভারে প্রোটিয়া স্পিনারের ষষ্ঠ শিকার হন নিতিশ রেড্ডি। একাই লড়ছিলেন জাদেজা। 

শেষ পর্যন্ত তিনি ফিফটি গড়েও টিকতে পারেননি। বাকি দুটি উইকেট ভারত হারিয়েছে পরের ওভারে। কেশব মহারাজের জোড়া শিকার হন জাদেজা (৫৪) ও শেষ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ সিরাজ, যাকে মার্কো জানসেন এক অবিশ্বাস্য ক্যাচে আউট করেন। ম্যাচে হারমার ২৩ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ছয় উইকেট নেন, এবং পুরো টেস্টে তার উইকেট সংখ্যা ছিল ৯টি।