ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার পর জয়-পরাজয়ের প্রশ্নটি এখন মূলধারার গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইরানি রাজনীতিবিদ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা—উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করছে। এমনকি সংযুক্ত আরব আমিরাত, যারা কেবল রক্ষণাত্মক অবস্থানে ছিল এবং কোনো হামলায় অংশ নেয়নি, তারাও বিজয় দাবি করেছে।

তাহলে এই যুদ্ধে আসলে জিতছে কে? প্রশ্নটি যতটা সহজ মনে হয়, তার চেয়েও বেশ জটিল।

সমকালীন যুদ্ধগুলো কোনো পক্ষকে বিজয়ী বা পরাজিত হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। ঐতিহাসিক যুদ্ধগুলোতে যুদ্ধক্ষেত্রের স্পষ্ট জয়কে রাজনৈতিক বিজয়ে রূপান্তর করা যেত; কিন্তু সমকালীন যুদ্ধগুলোর ফলাফল প্রায়ই অস্পষ্ট থাকে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা ‘মানবাধিকার’ এবং ‘আন্তর্জাতিক আইনের’ মতো উদার গণতান্ত্রিক ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠায় জয় ও পরাজয়ের মানদণ্ড বদলে গেছে। এই জটিলতা থেকেই ‘মানুষের হৃদয় জয় করার’ ধারণার উদ্ভব ঘটে, যা প্রথম দেখা যায় ভিয়েতনাম যুদ্ধে এবং পরে আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে নাইন-ইলেভেন (৯/১১) পরবর্তী ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে।

জয় ও পরাজয়ের ধারণা এখন ‘প্রোপাগান্ডা’, নিজস্ব ব্যাখ্যা এবং ‘অপ্রতিসম যুদ্ধের’ (অসম প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে যুদ্ধ) ওপর নির্ভরশীল। ফলাফলের এই অস্পষ্টতা প্রতিটি পক্ষকেই বিজয়ের দাবি করার সুযোগ করে দেয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যুদ্ধে জয়ী হওয়ার দাবি ভোটারদের কাছে ক্ষমতাসীন দলকে আরও জনপ্রিয় করতে সাহায্য করে আর একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনসমর্থন ও বৈধতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।

সমকালীন যুদ্ধে ‘জয়’ শব্দটির পরিভাষাগত অস্পষ্টতা বা নিজস্ব ব্যাখ্যার সুযোগ নিয়ে উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি নাগরিকেরা ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং পারমাণবিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সামনে আনছেন। অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং ‘কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল’ সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রয়েছে; পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ওপর তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে।

এ ছাড়া ‘অপ্রতিসম যুদ্ধের’ ধারণা কোনো দুর্বল পক্ষকে বিজয়ের দাবি করার সুযোগ দেয়, সেই পক্ষ কোনো দেশ হোক বা কোনো সংগঠন; যদি তারা পুরোপুরি ভেঙে পড়া এড়াতে পারে এবং তাদের প্রতিরোধের আদর্শকে টিকিয়ে রাখতে পারে। সাধারণত একটি শক্তিশালী পক্ষের তুলনায় দুর্বল পক্ষটি যুদ্ধে বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকে; কারণ, তারা এই লড়াইকে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখে।

জয় থেকে পরাজয়

সমকালীন যুদ্ধগুলোতে সামরিক বিজয় সব সময় রাজনৈতিক বিজয়ে রূপান্তর হয় না। ভিয়েতনাম যুদ্ধ এর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেই যুদ্ধে ‘টেট অফেনসিভ’-এ যুক্তরাষ্ট্র ও তার দক্ষিণ ভিয়েতনামি মিত্রদের সামরিক বিজয় শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরাজয়ে পর্যবসিত হয়েছিল; যা ভিয়েতকংদের নতুন সদস্য সংগ্রহে সহায়তা করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনকে উসকে দিয়েছিল।

যুদ্ধ যখন চলমান থাকে, তখন এর সামরিক বা রাজনৈতিক বিজয় নিরূপণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন এবং সাদ্দাম হোসেনের পতনকে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক ও রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু দ্রুতই তা পরাজয়ে রূপ নেয় এবং সাদ্দাম-পরবর্তী ইরাকে ইরানকে সর্বোচ্চ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দেয়।

২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের পতনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের যে ‘বিজয়’ দৃশ্যমান হয়েছিল, তা মাত্র দুই দশকের ব্যবধানে চূড়ান্ত পরাজয়ে রূপ নেওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না উপাসনালয়ও। হামলায় বিধ্বস্ত ইহুদিদের একটি সিনাগগের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। তেহরান, ইরান; ৭ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না উপাসনালয়ও। হামলায় বিধ্বস্ত ইহুদিদের একটি সিনাগগের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। তেহরান, ইরান; ৭ এপ্রিল ২০২৬, ছবি: রয়টার্স

ইরান যুদ্ধ একটি অপ্রতিসম ও চলমান সংঘাত হওয়ায় এখানে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করা বিশেষভাবে কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত কিছু সাফল্য রয়েছে। তারা ইরানের কয়েক ডজন সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাকে হত্যা করেছে এবং দেশটির অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

তা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির আগপর্যন্ত ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছিল।

সমকালীন যুদ্ধে ‘জয়’ শব্দটির পরিভাষাগত অস্পষ্টতা বা নিজস্ব ব্যাখ্যার সুযোগ নিয়ে উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করছে। মার্কিন ও ইসরায়েলের নাগরিকেরা ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং পারমাণবিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সামনে আনছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং ‘কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল’ সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রয়েছে; পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ওপর তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে।

প্রকৃতপক্ষে উভয় পক্ষেরই নিজ নিজ জনগণের কাছে বিজয় ‘বিক্রি’ করার মতো ভিত্তি ও কারণ রয়েছে। কারণ, উভয় পক্ষই বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বেশ কিছু কৌশলগত জয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা

রাজনৈতিক বিজয় কার হয়েছে—সেই মাপকাঠিতে বিচার করলে ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষে যায় না। এই যুদ্ধের রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো ছিল ইরানে ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ (রেজিম চেঞ্জ) ঘটানো, একটি গণ-অভ্যুত্থান উসকে দেওয়া, সশস্ত্র কুর্দি বাহিনীকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সক্রিয় করা এবং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া, যার প্রতিটিই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।

সামরিক সক্ষমতার বিশাল ব্যবধানের কারণে কিছু কৌশলগত জয় পাওয়া গেলেও যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই যুদ্ধ শুরু করেছিল, তার একটিও অর্জিত হয়নি। উল্টো ইরান সফলভাবে এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুকে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচলের নিরাপত্তার দিকে সরিয়ে নিতে পেরেছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করে ইরান আলোচনার টেবিলে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে। পাকিস্তানে হওয়া আলোচনায় ইরান ১০ দফার একটি পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়; যেখানে প্রণালির ওপর তাদের প্রভাবের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখা এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের প্রস্তাব ছিল।

ওমানের মুসান্দাম প্রদেশের উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত একটি জাহাজ। ১২ এপ্রিল ২০২৬
ওমানের মুসান্দাম প্রদেশের উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত একটি জাহাজ। ১২ এপ্রিল ২০২৬, ছবি: রয়টার্স

ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে এই পরিকল্পনার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিলেও পরে তা থেকে সরে আসে, যার ফলে ইসলামাবাদে আলোচনা ভেস্তে যায়।

ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এমনকি তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করে এতে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বেআইনি যুদ্ধ শুরু করা; বালিকা বিদ্যালয়সহ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে অসংখ্য শিশু হত্যা; একটি সার্বভৌম দেশের বৈধ নেতাকে হত্যা এবং একটি গোটা সভ্যতাকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী উদার গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ‘মানুষের হৃদয় জয়ের লড়াইয়ে’ হেরে যেতে পারে।

অন্যদিকে ইরানও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ফলে আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা বেড়েছে। এই দেশগুলো এসব ঘটনাকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারে, যা ভবিষ্যতে ইরানের জন্য সম্পর্ক মেরামতের পথ কঠিন করে তুলবে।

সামগ্রিকভাবে এই যুদ্ধের জয়ী বা পরাজিত কারা তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনো আসেনি। তবে সমকালীন যুদ্ধের বৈশিষ্ট্যগুলো বিবেচনা করলে এটি বলা সমীচীন হবে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি কৌশলগত সামরিক বিজয় অর্জন করলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়ে তারা হেরে যাচ্ছে।

আরাবি ২১ নিউজ ওয়েবসাইটের এডিটর-ইন-চিফ ফিরাস আবু হেলালের মতামত কলামটি মিডল ইস্ট আই-এ প্রকাশিত হয়েছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দেশটির সীমান্ত রক্ষী বাহিনী— বিএসএফের ক্যাম্পে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আগুনে পুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন রাম সিং নামে এক বিএসএফ সদস্য।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমা অন্তর্গত হিঙ্গলগঞ্জের ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, এদিন সকালে হিঙ্গলগঞ্জ থানার বড় বাঁকড়া এলাকায় বিএসএফের ৭৭ নম্বর ব্যাটেলিয়নের ক্যাম্পের জ্বালানির ঘরে হঠাৎ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে চারিদিক কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। তীব্র আগুনে ওই সময় ঘরের মধ্যে আটকা পড়ে দগ্ধ হন রাম সিং। পরে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিএসএফ ক্যাম্পে হঠাৎ আগুন দেখে হিঙ্গলগঞ্জ থানা এবং দমকলে খবর দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং দমকল বাহিনী। প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

শর্ট সার্কিট থেকে পেট্রোলের মেশিনে আগুন লেগে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা তদন্ত করে দেখছে হিঙ্গলগঞ্জ থানা পুলিশ।

 

অস্ট্রেলিয়ার সচল দুটি তেল শোধনাগারের একটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের জিলং শহরের কাছে অবস্থিত ‘ভিভা এনার্জি গ্রুপ’-এর শোধনাগারটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশাল এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি খাতে বড় ধরণের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, শোধনাগারটির মোটর গ্যাসোলিন ইউনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের সময় শোধনাগারটিতে প্রায় ১০০ জন কর্মী কর্মরত থাকলেও ভাগ্যক্রমে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

অগ্নিকাণ্ডের ফলে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও রাসায়নিক বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় জিলং ও এর আশপাশের এলাকার প্রায় ৩ লাখ বাসিন্দাকে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং দরজা-জানলা শক্তভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। ধোঁয়ার প্রকোপ না কমা পর্যন্ত বাইরে বের না হতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই শোধনাগারটি কেবল ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের অর্ধেকের বেশি জ্বালানি চাহিদাই মেটায় না, বরং পুরো অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ১০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ফলে শোধনাগারটির পেট্রোল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের উৎপাদন সীমিত পরিসরে চালু রাখার চেষ্টা চলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অগ্নিকাণ্ড অস্ট্রেলিয়ার জন্য এমন এক সময়ে এল যখন দেশটি এমনিতেই জ্বালানি সংকটে জর্জরিত। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া আগে থেকেই চাপের মুখে ছিল।

 

ইরান ও লেবাননে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব জেনারেল স্টাফ আইয়াল জামির।

গতকাল বুধবার আইডিএফের মুখপাত্র এফি ডেফরিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আইডিএফ মুখপাত্র জানান, সেনাপ্রধান লিতানি নদী পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের পুরো এলাকাকে হিজবুল্লাহর জন্য ‘কিলিং এরিয়া’ (মৃত্যুপুরী) হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

ডেফরিন দাবি করেন, লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত হিজবুল্লাহর ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি সদস্যকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তিনি আরও বলেন, ‘হিজবুল্লাহ যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, তাদের নির্মূল করতে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

তথ্যসূত্র: বিবিসি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসিন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে যদি যুক্তরাষ্ট্র ‘পুলিশের’ ভূমিকা পালন করতে চায়, তবে সেখানে মার্কিন জাহাজগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হবে। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পরপরই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। এখন এই প্রণালি আর ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ–অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

এ পরিস্থিতিতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে মোহসিন রেজাই বলেন, ‘ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে পুলিশ হতে চান। এটা কি আপনার কাজ? এটা কি যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী একটি সামরিক বাহিনীর কাজ?’

মোহসিন রেজাই সতর্ক করে বলেন, ‘আপনাদের জাহাজগুলো (অবরোধ কার্যকর করতে নজরদারি করা মার্কিন জাহাজ) আমাদের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই ডুবতে পারে।’

হরমুজ প্রণালির ম্যাপের ইলাস্ট্রেশন
হরমুজ প্রণালির ম্যাপের ইলাস্ট্রেশনছবি: রয়টার্স

মোহসিন রেজাই ইরানের উচ্চপদস্থ একজন সামরিক কর্মকর্তা। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) সাবেক কমাণ্ডার–ইন–চিফ ছিলেন তিনি। ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে অবসরে যান।

গত মাসে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি জানায়, মোহসিন রেজাই অবসর ভেঙে মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তথ্যসূত্র: এএফপি

লা লিগায় নিজেদের হারিয়ে খুঁজলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে নকআউট পর্বে একের পর এক বিশ্বসেরা ক্লাবগুলোর বিপক্ষে লড়াই করতে হয়েছে তাদের। ম্যানসিটির মতো দলকে হারাতে পারলেও বায়ার্ন মিউনিখের কাছে পরাস্ত হয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা।

যার মূল কারণ গোলকিপার, থিবো কর্তোয়ার ইনজুরি পড়ায় লুনিন দলকে সেরা দিতে পারেননি। বায়ার্নের মাঠে বার বার কামব্যাক করলেও হতাশ করেছে লুনিন। তাই শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে রিয়ালকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে জার্মান ক্লাবটি।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ৪-৩ গোলে জিতেছে তারা। প্রথম দেখায় ২-১ ব্যবধানে জয়ী বায়ার্ন দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ অগ্রগামিতায় এগিয়ে গেল।

এদিনের ম্যাচের শুরুর মিনিট থেকে গোল করে রিয়াল। প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগে যার শুরুটা করেন আর্দা গিলের। ম্যাচের ঘড়িতে সময় তখন ৩৫ সেকেন্ড! চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের হয়ে সবচেয়ে দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড গড়লেন তুর্কি মিডফিল্ডার। পরে আরেকটি দারুণ গোল করেন তিনি। 
ওই ধাক্কা সামলে নিতে অবশ্য একদমই দেরি করেনি বায়ার্ন। পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা টেনে, দুই লেগ মিলিয়ে আবার এগিয়ে যায় তারা। জসুয়া কিমিখের কর্নারে একেবারে গোলমুখে হেডে গোলটি করেন পাভলোভিচ। আয়ত্ত্বের মধ্যে হলেও, উড়ে আসা বলের গতি বুঝতে পারেননি রিয়াল গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন।

দুর্দান্ত গোলে দলকে আবার ম্যাচে এগিয়ে নেন গিলের। ডি-বক্সের বাইরে ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পায় রেয়াল এবং অসাধারণ বাঁকানো শটে রক্ষণ দেয়ালের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন ‘তুরস্কের মেসি।’ নয়ার ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেননি।

৩৭তম মিনিটে লুনিন আরেকটি দারুণ সেভ করলেও, পরের মিনিটে ফের গোল হজম করে রিয়াল। উপামেকানোর পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে কোনাকুনি শটে মৌসুমে গোলের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কেইন।

তিন মিনিট পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও, বাধা পায় ক্রসবারে। অবশ্য পরের মিনিটেই দলকে আবার এগিয়ে নেন এমবাপে। ব্রাজিলিয়ান তারকার পাস ডি-বক্সে পেয়ে প্লেসিং শটে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ সমতা টানেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক শুরু করে বায়ার্ন। প্রথম আট মিনিটের প্রায় পুরোটাই খেলা হয় রেয়ালের অর্ধে। এরপর পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে প্রথম কর্নার পায় সফরকারীরা। ওই কর্নারের পর, সতীর্থের ক্রস ডি-বক্সে পেয়ে ভলি করেন এমবাপে, দারুণ ক্ষীপ্রতায় সেটা আটকে দেন নয়ার।

একটু পর রক্ষণের দুর্বলতায় বিপদে পড়তে যাচ্ছিল রেয়াল। ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে যান লুইস দিয়াস, তবে শট নিতে একটা মুহূর্ত দেরি করেন তিনি, পেছন থেকে বল কেড়ে নেন ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ড।

৬৮তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নেন ওলিসে, কোনোমতে এক হাত দিয়ে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান লুনিন। একটু পর পাল্টা আক্রমণে এমবাপের পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেলেও, সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি ভিনিসিউস।

নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় রেয়াল। ৬৮তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াসের বদলি নামার ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন কামাভিঙ্গা। আর আট মিনিট পর কেইনকে অহেতুক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ফরাসি মিডফিল্ডার।

এরপরই রিয়ালের সব প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। ৮৯তম মিনিটে দিয়াসের জোরাল শটে বল একজনের পা ছুঁয়ে একটু দিক পাল্টে জালে জড়ায়, দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে যায় বায়ার্ন।

আর চার মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে ওলিসের গোলে রেকর্ড ১৫ বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের সব আশা শেষ হয়ে যায়। একটু পরই বাজে শেষের বাঁশি। উল্লাসে ফেটে পড়ে বায়ার্ন শিবির। আর হতাশায় নুইয়ে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শিরোপাধারী পিএসজির মুখোমুখি হবে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।

 

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, ড্রোনটি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলায় ধ্বংস হয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছে।

মার্কিন নৌবাহিনী ১৪ এপ্রিল নিশ্চিত করে যে ৯ এপ্রিল একটি ট্রাইটন মানববিহীন নজরদারি বিমান পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় হারিয়ে গেছে। তবে এটি ভূপাতিত হয়েছে নাকি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিধ্বস্ত হয়েছে— সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের ওপর প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি অভিযান চালানোর পর ইতালির নেভাল এয়ার স্টেশন সিগোনেলা ঘাঁটিতে ফিরছিল। ঠিক সেই সময় এটি জরুরি সংকেত ৭৭০০ পাঠায় এবং প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পরই এর সংকেত রাডার ও অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়।

এমকিউ-৪সি ট্রাইটন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল ও উন্নতমানের নজরদারি ড্রোন। প্রতিটি ড্রোনের আনুমানিক মূল্য ২৩৫ থেকে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৮০০ কোটি টাকার বেশি।

অত্যধিক ব্যয়ের কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ২০টি ট্রাইটন সক্রিয় সেবায় রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে একটি ড্রোন হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় আর্থিক ও কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার নর্থরপ গ্রুম্যান নির্মিত ট্রাইটন মূলত দীর্ঘপাল্লার সামুদ্রিক নজরদারি ড্রোন। এটি একটানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আকাশে থাকতে পারে এবং ৫০ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় উড়তে সক্ষম।

ড্রোনটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিকালি স্ক্যানড অ্যারে রাডার, ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ক্যামেরা, ইনফ্রারেড সেন্সর এবং সিগন্যাল গোয়েন্দা ব্যবস্থা। ফলে এটি সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল, নৌবহরের গতিবিধি এবং সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ড্রোনটি ইরানের দিকেই কিছুটা মোড় নিয়েছিল বলে ফ্লাইট ডেটায় দেখা গেছে। এ কারণে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, এটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে।

এর আগে ২০১৯ সালে ইরান একটি মার্কিন আরকিউ-৪এ গ্লোবাল হক ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নজরদারি ড্রোনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরান সত্যিই এই ট্রাইটন ভূপাতিত করে থাকে, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করবে। সূত্র: মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন

 

স্পেন সরকার দেশটিতে নথিহীন অভিবাসীদের জন্য একটি ‘সাধারণ ক্ষমা’ কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। এর ফলে দেশটিতে অবস্থান করা প্রায় পাঁচ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী আইনি স্বীকৃতির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার গতকাল মঙ্গলবার এ কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। স্থানীয় সময় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

স্পেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অংশে মানুষের মধ্যে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে স্পেন সরকারের এমন উদ্যোগ দেশটিকে ব্যতিক্রমী অবস্থানে নিয়ে গেছে।

সানচেজ সরকারের এ উদ্যোগ স্পেনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরোধিতা উসকে দিয়েছে। এমনকি দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেছে। তাঁদের মতে, তাঁরা এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন না।

অভিবাসন আইন সংশোধনের ডিক্রি জারির মাধ্যমে সানচেজ সরকার দ্রুততার সঙ্গে এ উদ্যোগ নেয়। এর ফলে দেশটির বামপন্থী সরকারের আইনসভাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আইনসভায় স্পেনের বর্তমান সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এর আগে দেশটির আইনসভায় ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণার একটি বিল পাসের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।

নতুন কর্মসূচিতে বলা হয়েছে, নথিহীন অভিবাসীদের মধ্যে যাঁরা সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারবেন, তাঁরা এক বছরের জন্য স্পেনে বসবাস আর কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

স্পেনের অভিভাসনবিষয়ক মন্ত্রী এলমা সাইজ বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর ২০ এপ্রিল থেকে সশরীর আবেদন করা যাবে। চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

আবেদনের জন্য বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো আবেদনকারীকে অবশ্যই ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে। কমপক্ষে পাঁচ মাস দেশটিতে বসবাস করার প্রমাণ দেখাতে হবে। আবেদনকারীর নামে অপরাধের কোনো রেকর্ড থাকা যাবে না। যাঁদের এই সাময়িক আবেদন মঞ্জুর হবে, তাঁরা এক বছর পর গিয়ে স্পেনে স্থায়ী বসবাস ও অন্যান্য কাজের অনুমতির জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

স্পেনের জনমিতিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তির দিকে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এ সমস্যার মোকাবিলায় অভিবাসীদের কাজে লাগাতে চাইছেন। তাঁর মতে, এ পদক্ষেপ একটি ‘ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়’ কাজ।

তবে স্পেনের বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নেজ ফেইহো এটিকে ‘অমানবিক, অন্যায্য, অনিরাপদ এবং অ-টেকসই’ একটি পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও মধ্য ডানপন্থী পিপলস পার্টি চলতি শতকের গোড়ার দিকে ক্ষমতায় থাকার সময় দুবার এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছিল।

সানচেজ সরকারের হিসাবে, নতুন এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় পাঁচ লাখ নথিহীন অভিবাসী বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে।

স্পেন সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীরা। গতকাল মঙ্গলবার আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক ভিডিও ক্লিপে বার্সেলোনায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের উল্লাস করতে দেখা যায়। বৈধ হওয়ার সুযোগ তৈরি করায় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী সানচেজকে ধন্যবাদ জানান।

মুরুল ওয়াইদ নামের বাংলাদেশি একজন অভিবাসী আল-জাজিরাকে বলেন, এখানে কাজ নেই, থাকার ঘর নেই। এখানে জীবনযাপন খুবই কঠিন। তাই এখন বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর খবরে সবাই খুবই খুশি।

আল–জাজিরা

ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে হুমকি দিয়েছেন, তার জবাবে গতকাল মঙ্গলবার চীন ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি একে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপাতে চায়, তবে চীন অবশ্যই এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে।’

মুখপাত্র আরও বলেন, চীন ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে যে খবর রটেছে, তা ‘পুরোপুরি বানোয়াট’।

তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ

ইরানের বন্দরগুলো ছেড়ে আসা এবং সেখানে প্রবেশের চেষ্টাকারী অন্তত আটটি তেলবাহী জাহাজকে গতিরোধ করে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।

গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া হরমুজ প্রণালি অবরোধের এ মার্কিন অভিযানে জাহাজগুলোকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যরা রেডিওর মাধ্যমে জাহাজগুলোর ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাঁদের গতিপথ পরিবর্তন করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ পাওয়ামাত্র সবকয়টি ট্যাংকার বা তেলবাহী জাহাজ তা মেনে নিয়েছে। ফলে কোনো জাহাজেই তল্লাশি চালানোর জন্য ওঠার (বোর্ডিং) প্রয়োজন পড়েনি।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকারের একটি অংশে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার মনে হয়, এটি (যুদ্ধ) শেষের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে, হ্যাঁ।’

নিজের বক্তব্যের ওপর জোর দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি শেষ হওয়ার একদম দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।’

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য ছত্তিশগড়ের সিক সাক্তি জেলায় একটি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লার বিস্ফোরিত হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন ওই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ১১ জন কর্মচারী এবং আহত হয়েছেন আরও ২২ জন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরের দিকে এই ঘটনা ঘটেছে। এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, সাক্তি জেলার সিংঘিতারাই অঞ্চলে অবস্থিত এ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রটির মালিক বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠী। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে উৎপাদন শুরু হয় ২০২৫ সাল থেকে।

সাক্তি জেলা পুলিশ ও প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারের কাজ শুরু করে।

জেলার পুলিশ সুপার প্রফুল্ল ঠাকুর মঙ্গলবার রাতে বলেন, চার জন কর্মচারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন, আর বাকি সাত জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন। আহত ২২ জন কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠী কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কারাখানাটির বয়লার ইউনিট তারা সরাসরি পরিচালনা করতে না। এনটিপিসি জিই পাওয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড (এনজিএসএল) নামে অপর একটি কোম্পনি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির বয়লার ইউনিট পরিচালনা ও রক্ষাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল।

তবে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে করা হবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ হলো নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করা এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই এই বিস্ফোরণকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমাদের সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ নির্ধারণ করতে তদন্ত হবে এবং এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র : দ্য ইকোনমিক টাইমস