ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে ক্রমশ। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এই যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; বরং হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে দুই পক্ষই। এরই মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান। আর নতুন দফায় এসে প্রথমবারের মতো ঘোষণা দিয়ে হাইপারসনিক মিসাইলও ব্যবহার করেছে ইরান।

দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করা হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো হামলায় ২২০ জন মার্কিন সেনা ও কমান্ডার নিহত বা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে ইরান। খবর প্রেস টিভির।

শনিবার (৭ মার্চ) রাতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) আওতাধীন খতম আল-আনবিয়ার সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তার দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা এয়ার বেসে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সৌদি আরবের আল-খার্জে প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। সেইসঙ্গে পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন আইআরজিসির এ কর্মকর্তা।

তবে, এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও।

আটদিন ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। এরই মধ্যে ইরানের ওপর ভয়ংকর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শনিবার (৭ মার্চ) রাতেই ইরানের নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা হবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি।

আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পর হামলা চালানোর জন্য নতুন মার্কিন স্থাপনা খুঁজছে ইরানও। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে ইরানের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিস্তৃতি এবং সরাসরি তাদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। এ কারণে ইরান এখন আমেরিকান অঞ্চল, বাহিনী এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পর্যালোচনা করবে। যেগুলো এখনও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে হামলা চালানো হবে।

সেইসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামনে কখনই আত্মসমর্পণ করবে না ইরান।

 

আপনি যখন ‘জোড়াতালির’ একটা লিগ খেলে এশিয়ান কাপের মঞ্চে যাবেন, তখন এমন অসহায় আত্মসমর্পণটা স্বাভাবিক! যেখানে প্রতিপক্ষ চীন–উত্তর কোরিয়া, তাদের সামনে দাঁড়ানোর আগে অন্তত উচ্চ র‍্যাঙ্কিংয়ের দলগুলোর বিপক্ষে একাধিক ম্যাচ খেলার প্রয়োজন ছিল। এ প্রয়োজনীয়তার কথা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলারও বোঝাতে পারেননি দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে)। তাই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ৫–০ গোলের হারটা শুধু হার নয়, বাংলাদেশের জন্য একটা শিক্ষাও।

চীন ও উত্তর কোরিয়া—দুই দলের বিপক্ষে দুরকম বাংলাদেশকে দেখা গেল। গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে চীনের দ্রুতলয়ের প্রতি–আক্রমণ, দূরপাল্লার পাস আর ক্রসের পসরা থামিয়ে বাংলাদেশও আক্রমণ করেছে। কিন্তু আজকের চিত্র একেবারে ভিন্ন।

বাংলাদেশের আক্রমণভাগকে নিষ্ক্রিয় করে উত্তর কোরিয়া দেখিয়েছে কীভাবে রক্ষণ তছনছ করতে হয়। গোল পাঁচটা না হয়ে আট–নয়টা বা দশটা হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন অন্তত সেই কথাই বলছে।

রক্ষণ সামলাতেই হিমশিম খেয়েছে বাংলাদেশ
রক্ষণ সামলাতেই হিমশিম খেয়েছে বাংলাদেশ, এএফপি
 

পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের গোলমুখে ৩১টি শট নিয়েছে উত্তর কোরিয়া, যার ১১টি ছিল পোস্টে। বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের গোলে একটি শটও নিতে পারেনি। গোলকিপার মিলি আক্তার একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন। পাঁচটি বল তাঁর আশপাশ দিয়ে জাল ছুঁয়েছে ঠিকই, কিন্তু আরও পাঁচ–ছয়টি গোলে শট কিন্তু দারুণ দৃঢ়তায় আটকেছেন তিনি।
শুধু মিলির দৃঢ়তাই নয়, বাংলাদেশের রক্ষণভাগ নিয়েও সন্তুষ্টির জায়গা আছে।

সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে উত্তর কোরিয়ার আক্রমণের ক্ষিপ্রতা এতটাই তীব্র ছিল বাংলাদেশের পাঁচ ডিফেন্ডারের সঙ্গে দুই মিডফিল্ডার মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমাও প্রতিপক্ষের আক্রমণ নষ্টের কাজে মন দেন। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গুছিয়ে খেলার চেষ্টা করেলেও আক্রমণভাগে বরাবরের মতো ব্যর্থই বাংলাদেশ। বিপরীতে উত্তর কোরিয়া অ্যাটাকিং থার্ডে ক্রমাগত ক্রস বাড়িয়ে, লং শটে তৈরি করা সুযোগগুলোকে গোলে পরিণত করেছে।

উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকল
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকল, এএফপি
 

বাংলাদেশ নিজেদের পায়ে খুব একটা বল রাখতে পারেনি, পারেনি আক্রমণ করতেও। এই ‘না পারাটা’ যেমন তাদের ভীষণ পীড়া দেবে, তেমনি উত্তর কোরিয়ার শক্তি–সামর্থ্য দেখার পর এই হার থেকে ইতিবাচক বিষয়গুলোও তুলে নেবে।

উত্তর কোরিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ (র‍্যাঙ্কিংয়ে ১১২তম) থেকে ১০৩ ধাপ এগিয়ে, চারবার বিশ্বকাপে খেলেছে তারা, দশবার এশিয়ান কাপে খেলে তিনবার হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। গত দশ ম্যাচে হেরেছে মোটে একটি। এমন একটা দলের বিপক্ষে ৫–০ গোলের হার স্রেফ হারই নয়, বরং বাংলাদেশের এই দলটাকে কীভাবে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নতুন করে ভাবার উপলক্ষও।

তরুণ গোলকিপার মিলি আক্তার অনেকটাই মার্কিন কিংবদন্তি গায়ক এলভিস প্রিসলির মতো! সিডনিতে নারী এশিয়ান কাপের আবহে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার এমন মন্তব্যই করেছেন। গোলপোস্টের নিচে মিলির স্টাইলে এতটাই মুগ্ধ বাটলার যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কিং অব রক অ্যান্ড রোল’–এর সঙ্গে মিলির তুলনা টানলেন তিনি।

নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে অভিষেকে প্রথম ম্যাচে চমক দিয়েছে বাংলাদেশ, আর তার নেপথ্যে রয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। প্রথম ম্যাচে নয়বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ২–০ গোলে হারের ম্যাচে গোলপোস্টের নিচে বাটলার নামিয়ে দিয়েছিলেন তরুণ গোলকিপার মিলি আক্তারকে।

কোরিয়া ম্যাচ সামনে রেখে আজ সকালে ম্যাচের ভেন্যু সিডনি ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বাটলার। সেখানেই মিলিকে চীনের বিপক্ষে ম্যাচে কেমন দেখলেন—এমন প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। উত্তরে মিলির প্রশংসায় বাটলার বলেন, ‘গোলকিপার মিলি অনেকটা এলভিস প্রিসলির মতো, তার দারুণ একটা স্টাইল আছে। এই টুর্নামেন্টে তার চুলের স্টাইলই সেরা। আজ সকালেও আমরা এটা নিয়ে কথা বলছিলাম। সে অনেক দিন ধরেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল এবং সে যে আগে খেলেনি, তার একমাত্র কারণ হলো আমাদের কোনো ম্যাচ ছিল না।’
তরুণ মিলি আক্তার চীনের বিপক্ষে দারুণ সব সেইভ করেছেন
তরুণ মিলি আক্তার চীনের বিপক্ষে দারুণ সব সেইভ করেছেনবাফুফে

বাটলার মনে করেন, বাংলাদেশে সাহসী গোলকিপার আছে, কিন্তু পরিচর্চার অভাবে তাঁরা আলোয় আসতে পারেন না, তাই তাঁদের সুযোগ করে দেওয়াটাই জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে বাটলার যোগ করেন, ‘চীন ম্যাচের আগে ৯০ থেকে ১০০ দিন আমাদের কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল না, যা দুর্ভাগ্যজনক। আমাকে এই সিদ্ধান্তের কোনো কৈফিয়ত দিতে হবে না (মিলিকে একাদশে নেওয়া)। আমার মনে হয় বাংলাদেশের ফুটবলে গোলকিপিংয়ে বড় সমস্যা আছে, যা নিয়ে কাজ করা দরকার। এটা করা আমার কাজ নয়; আমি যা করতে পারি, তা হলো নতুনদের খুঁজে বের করা এবং মিলির মতো তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার মতো সাহসী হওয়া।’

এলভিস প্রিসলি
এলভিস প্রিসলিএক্স

মিলির সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে বাটলার আরও বলেন, ‘সে এই সুযোগ পাওয়ার যোগ্য ছিল, কারণ তার উচ্চতা আছে (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি), হাত ভালো এবং দারুণ একটা চরিত্র। সবচেয়ে বড় কথা, সে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ থেকে এসেছে; কারণ, সে একজন সৈনিক এবং অনেকেই এই বিষয়টি জানে না।’

সিডনির মাঠে কালকের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে এই ‘এলভিস প্রিসলি’র গ্লাভসজোড়া কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

সিডনি থেকে

সিডনি থেকে

এক দল টুর্নামেন্ট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল, নয়বারের চ্যাম্পিয়ন। অপর দল টুর্নামেন্টটিতে খেলতেই এসেছে এই প্রথম। র‍্যাংঙ্কিংও দেখাচ্ছে বড় পার্থক্য—১৭ আর ১১২। এমন অসম শক্তির দুই দল চীন ও বাংলাদেশ আগামীকাল ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মঞ্চে।

বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা (সিডনির সময় সন্ধ্যা ৭টা) শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচ সামনে রেখে আজ সকালে সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন চীনের প্রধান কোচ আন্তে মিলিচিক ও অধিনায়ক উ হাইয়ান।

বাংলাদেশ দল র‍্যাংঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও তাদের হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক। বাংলাদেশ কোনো অঘটন ঘটাতে পারে কি না—প্রথম আলো প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে মিলিচিক বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলে যেকোনো দল যেকোনো দিনে কঠিন সময় উপহার দিতে পারে। বাংলাদেশ এখানে কোনো চাপ ছাড়াই খেলবে। তাদের কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। আমরা তাদের মোটেও খাটো করে দেখছি না। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে বিনিয়োগ এবং তাদের খেলার মান অনেক বেড়েছে।’

নিজের প্রাথমিক বক্তব্যে বাংলাদেশ দলের লড়াকু মনোভাবের প্রশংসা করে কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি তরুণ এবং পরিশ্রমী দল, তারা প্রথমবারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছে। তারা কোনো চাপ ছাড়াই সাবলীল ফুটবল খেলে। আমরা আগামীকাল একটি কঠিন ম্যাচের প্রত্যাশা করছি, তবে আমাদের মূল লক্ষ্য আমাদের নিজস্ব প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়ন করা।’

চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক ও অধিনায়ক উ হাইয়ান
চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক ও অধিনায়ক উ হাইয়ান

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলা হওয়ায় বর্তমান চীনা কোচের জন্য এটি অনেকটা ঘরে ফেরার মতো। ক্রোয়েশীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান মিলিচিক সিডনির ইনার ওয়েস্ট এলাকার উপশহর স্ট্র্যাথফিল্ডে বেড়ে উঠেছেন। নিজের চেনা আঙিনায় চীনের শিরোপা ধরে রাখার চাপ নিয়ে তিনি বাস্তববাদী, ‘চীনা জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করলে সব সময়ই প্রত্যাশার চাপ থাকে। তবে আমরা অনেক দূরের চিন্তা না করে প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতে চাই। গত চার বছর আগের টুর্নামেন্টের চেয়ে এবারের টুর্নামেন্ট ভিন্ন। আমাদের নিজেদের প্রত্যাশা অনেক বেশি এবং আমরা আমাদের সমর্থকদের গর্বিত করতে চাই।’

চীনা ফুটবলে অস্ট্রেলিয়ান কোচের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান কোচরা টেকনিক্যাল দিক থেকে ভিন্ন কিছু এবং ভালো কাঠামো উপহার দিতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ান কোচ হিসেবে এই দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ এবং আমি এই আস্থার প্রতিদান দিতে চাই।’

চীনের রক্ষণের অতন্দ্র প্রহরী ও ১২৪ ম্যাচের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অধিনায়ক উ হাইয়ান গত টুর্নামেন্টটি চোটের কারণে খেলতে পারেননি। এবার বাহুবন্ধনী হাতে মাঠে নামার আগে তিনি বেশ রোমাঞ্চিত। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরে আমি খুব খুশি। আমরা এরই মধ্যে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামীকাল আমাদের প্রথম ম্যাচ এবং কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও আমি বিশ্বাস করি আমরা ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখাতে পারব।’

বাংলাদেশকে সমীহ করলেও নিজেদের শক্তিতেই বেশি বিশ্বাসী উ হাইয়ান। স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ র‍্যাংঙ্কিংয়ে নিচে থাকলেও আমরা কালকের ম্যাচের আগে অন্য কিছু নিয়ে ভাবছি না। ধাপে ধাপে এগোতে চাই। চোটের কারণে আমি গত টুর্নামেন্ট মিস করেছিলাম, তাই এবার অধিনায়ক হিসেবে নিজের সেরাটা দিতে আমি উন্মুখ হয়ে আছি।’

মাঠে চীনকে নেতৃত্ব দেবেন ৩৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার উ হাইয়ান
মাঠে চীনকে নেতৃত্ব দেবেন ৩৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার উ হাইয়ান
 

বাংলাদেশ যে বাছাইপর্বে মিয়ানমারের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে এখানে এসেছে, সেটিও নজরে আছে চীনা কোচের। বাংলাদেশের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘আমরা প্রতিটি প্রতিপক্ষকে সম্মান করি এবং বিশ্লেষণ করি। বাংলাদেশ দল খুব তরুণ এবং আক্রমণাত্মক। তারা মিয়ানমারকে তাদের মাঠে হারিয়ে এখানে আসার যোগ্যতা অর্জন করেছে।’

চীনের ২৬ জনের স্কোয়াডে থাকা বেশ কিছু খেলোয়াড়ের অস্ট্রেলিয়ান লিগে খেলার অভিজ্ঞতা আছে, যা আগামীকাল তাঁদের কন্ডিশনের বাড়তি সুবিধা দেবে বলে কোচ মনে করেন। এদিকে মাঠের লড়াইয়ে লাল-সবুজের মেয়েরা কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারেন, তা দেখতে মুখিয়ে আছে সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশিরাও। কালকের ম্যাচে চীন তাদের দশম মুকুটের পথে প্রথম ধাপ পার করতে চাইলেও, বাংলাদেশ চাইবে এশিয়ার সেরাদের বিপক্ষে নিজেদের চেনাতে।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর লামের্দে একটি স্পোর্টস হলে রকেট হামলায় অন্তত ২০ জন ভলিবল খেলোয়াড় নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এসএনএন টেলিভিশন। খবরটি প্রকাশ করেছে মডার্ন ডট এজেড।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ফার্স প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট চারটি রকেট আঘাত হানে। এর মধ্যে লামের্দ শহরের একটি স্পোর্টস হল সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সময় সেখানে ভলিবল খেলোয়াড়দের অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছিল বলে জানা গেছে। 

এই ঘটনায় প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

হামলার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলও আনুষ্ঠানিক কোনো দায় স্বীকার করেনি।

ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হামলার উৎস ও প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে।

 

মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) মৌসুমের প্রথম ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির কাছে ২–০ গোলে হেরেছিল ইন্টার মায়ামি। আজ সোমবার সকালে অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষেও ২৪ মিনিটের মধ্যে ২–০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল লিওনেল মেসির দল। এই স্কোরলাইনে শেষ হয়েছে ম্যাচের প্রথমার্ধও। অর্থাৎ নতুন মৌসুমের প্রথম ১৩৫ মিনিটে ৫–০ গোলে পিছিয়ে ছিল মায়ামি।

বিরতিতে যাওয়ার সময় মেসি ও তাঁর সতীর্থদের চোখে মুখে হতাশা ও অসহায়ত্বের ছাপ ছিল স্পষ্ট। কিন্তু পরের ৪৫ মিনিটেই ঘটল দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। মেসির নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ওপর দাপট দেখিয়ে মায়ামি করে এক এক করে মোট চার গোল, দুটিই মেসির। প্রথমে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া ইন্টার মায়ামি শেষ পর্যন্ত পর্যন্ত মাঠ ছাড়ে ৪–২ গোলের অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে।

চলতি মৌসুম নতুন খেলোয়াড় ভেড়ানোর পর মায়ামিকে আগের চেয়ে শক্তিশালী মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই পরিবর্তনের ছাপ দেখা যাচ্ছিল না। লস অ্যাঞ্জেলেস ম্যাচের পর আজও শুরুতে বেশ ভুগেছে তারা। যার সুযোগ নিয়েই মার্কো পাসালিক ১৮ মিনিটে এগিয়ে দেন অরল্যান্ডোকে। ২৪ মিনিটে মার্টিন ওজেডা ব্যবধান দ্বিগুণ করলে বিপদ আরও বাড়ে মায়ামির। দলকে ম্যাচে ফেরাতে বিরতির পরপর দলে পরিবর্তন আনেন হাভিয়ের মাচেরানো।

লেফটব্যাক নোয়া অ্যালেনের জায়গায় নামান আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মাতেও সিলভেত্তিকে। এই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ম্যাচের দৃশ্যপট। ৪৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ২০ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন তরুণ সিলভেত্তির অসাধারণ এক শটে ব্যবধান কমায় মায়ামি। এরপরই দেখা মেলে মেসি জাদুর। ৫৭ মিনিটে গোছানো এক আক্রমণে অরল্যান্ডো বক্সের কাছাকাছি পৌঁছে যান মেসি। এ সময় তাঁর সামনে তৈরি হয় ছয় ফুটবলারের দেয়াল।

সতীর্থদের সঙ্গে মেসির গোল উদ্‌যাপন
সতীর্থদের সঙ্গে মেসির গোল উদ্‌যাপনএএফপি

আর সেই দেয়ালকে ফাঁকি দিয়েই বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে বছরের প্রথম গোলটি করেন মেসি। ম্যাচে আসে ২–২ সমতা। এরপর ইন্টার মায়ামি যেন আরও ধারালো হয়ে ওঠে। ৮৫ মিনিটে মেসির সহায়তায় বল পেয়ে গোল করেন তালিসকো সেগোভিয়া। এরপর ৯০ মিনিটে আবারও মেসি জাদু।

বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি–কিকে দারুণ এক শটে মায়ামিকে এগিয়ে দেন ৪–২ গোলে, ফ্রি–কিকে এটি তাঁর ৭০তম গোল। এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমে প্রথম ৫৫ ম্যাচে মেসির গোলসংখ্যা এখন ৫২। এর মধ্যে শেষ ৪৯ ম্যাচেই মেসি করেছেন ৫১ গোল। সব মিলিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার গোল এখন ৮৯৮। যার অর্থ, ৯০০ গোলের জাদুকরী সংখ্যা থেকে আর মাত্র ২ গোল দূরে মেসি।

ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইন্টার মায়ামির কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো অ্যাপল টিভিকে বলেন, ‘গত মৌসুমে অরল্যান্ডো আমাদের জন্য খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। দলটি শক্তিশালী, তাদের কোচও দারুণ। এখানে জিততে হলে আমাদের নিখুঁত ম্যাচ খেলতে হতো। (আমরা জানতাম) তারা আমাদের ওপর চাপ তৈরি করবে। খেলোয়াড় হিসেবে আমি এমন ম্যাচ উপভোগ করতাম।'

আগামী শনিবার ওয়াশিংটনের অডি ফিল্ডে ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে নিজেদের পরের ম্যাচ খেলবে মায়ামি।

টপ চার্টের শীর্ষে ওঠাটাকে একরকম অভ্যাসে পরিণত করেছেন টেইলর সুইফট। তাঁর গান ‘ওপালাইট’ মুক্তির ২০তম সপ্তাহ পর বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে উঠেছে। এটি এ তালিকার শীর্ষে জায়গা পাওয়া সুইফটের ১৪তম সিঙ্গেল। হট ১০০-এর শীর্ষে যেসব শিল্পীর গান সবচেয়ে বেশি জায়গা পেয়েছে, তাতে রিয়ানার সঙ্গে এখন যৌথভাবে তৃতীয় সুইফট। তাঁর সামনে আছে কেবল দ্য বিটলস (২০টি) ও মারায়া ক্যারি (১৯টি)।

সুইফটের ধারাবাহিক সাফল্য দেখে অনেকেই বলছেন, শীর্ষে পৌঁছানো তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। বিশেষ করে এখন তিনি প্রায় প্রতিবছরই নতুন অ্যালবাম মুক্তি দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী বছরই বিটলসকে সরিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে যাবেন তিনি।

টেইলর সুইফট
টেইলর সুইফট, রয়টার্স

‘ওপালাইট’ সুইফটের সর্বশেষ অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’-এর গান। এর আগে একই অ্যালবামের ‘দ্য ফেইট অব ওফেলিয়া’ টানা ১০ সপ্তাহ হট ১০০-এর ১ নম্বরে ছিল। গত বছর অ্যালবামটি মুক্তির সময় ‘ওপালাইট’ দুইয়ে থাকলেও পরে ১০ নম্বরে নেমে যায়। দীর্ঘদিন টপ টেনের বিভিন্ন অবস্থানে থেকে এবার শীর্ষ স্থান দখল করেছে।

৬ ফেব্রুয়ারি গানটির মিউজিক ভিডিও প্রকাশের পর এটি নতুন গতি পায়। তখনই হয়তো এটি শীর্ষে পৌঁছাত, কিন্তু সুপার বোল-পরবর্তী সময়ে ব্যাড বানি নতুন করে আলোচনায় আসায় হট ১০০-এর টপ চার্টে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়।
চলতি সপ্তাহে ‘ওপালাইট’ গানটির ১ লাখ ৬৮ হাজার কপি বিক্রি হয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় যা ২ হাজার ২৯০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ছিল ভিনাইল ও সিডি সংস্করণ। স্ট্রিমিং হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তেহরানের পাল্টা জবাবে উত্তাল পৃথিবী।

ঠিক এমনই এক সময়ে তেহরান থেকে হাজার মাইল দূরে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে ইরানের নারী ফুটবল দল নিচ্ছে অন্য এক লড়াইয়ের প্রস্তুতি। লক্ষ্য—এশিয়ান কাপ এবং এই টুর্নামেন্টে দারুণ কিছু করে ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের টিকিট কাটা।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান কাপে খেলছে ইরান। ২০২২ সালে বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। এবার গ্রুপ পর্বে ইরানের প্রথম ম্যাচ আজ, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। একদিকে রণকৌশল নিয়ে ভাবনা, অন্যদিকে স্বদেশ থেকে ভেসে আসা এক চরম অস্থিরতার খবর। ফুটবল-উৎসবের আড়ালে যে বারুদগন্ধ, তা উপেক্ষা করার সাধ্য কার!

ঠিক এই আবহে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এলেন ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ মারজিয়া জাফরি এবং অধিনায়ক জাহরা গানবারি। প্রত্যাশিতভাবেই ফুটবল ছাপিয়ে সেখানে বড় হয়ে উঠল রাজনীতি। প্রশ্ন ধেয়ে এল—আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর আপনাদের মানসিক অবস্থা কী, এই সংকটময় মুহূর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আপনারা ঠিক কী ভাবছেন?

ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ মারজিয়া জাফরি
ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ মারজিয়া জাফরি, এএফসি

প্রশ্নটা প্রথমে ফারসিতে হলো, তারপর ইংরেজিতে। মুহূর্তেই যেন সংবাদ সম্মেলনকক্ষের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি নেমে গেল। একটু দম নিয়ে কোচ মারজিয়া জাফরি ফারসিতে কিছু একটা উত্তরও দিতে যাচ্ছিলেন; কিন্তু এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) প্রতিনিধি মাঝপথে তাঁকে থামিয়ে দিলেন। অনেকটা গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করার মতো করেই বললেন, ‘পরের প্রশ্নে যাই চলুন। শুধু খেলাতেই মন দিই।’

বাকিটা সময় আলোচনা চলল শুধুই ফুটবল নিয়ে। তবে তেহরানে রেখে আসা পরিবার-পরিজন এখন যে যুদ্ধ–পরিস্থিতিতে আছেন, সেই উৎকন্ঠা থেকে ইরানের এই খেলোয়াড়েরা কতটা মুক্ত, সেই প্রশ্নটা থেকেই গেল।

কোচ মারজিয়া জাফরি ও অধিনায়ক জাহরা গানবারি যখন দল নিয়ে দেশ ছাড়েন, তখনো ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ জোরালো হচ্ছিল। তবে ইরানের মেয়েদের প্রস্তুতির গল্পটা বলতে গিয়ে অধিনায়ক আর কোচ যেন কোনো এক ‘আদর্শ পৃথিবী’র ছবি আঁকলেন। কোচ জাফরির কথায়, ‘দেশের লিগে খেলে মেয়েরা প্রস্তুত হয়েছে। তারপর কয়েকটা ক্যাম্প করে আমরা অস্ট্রেলিয়ায় এসেছি। আশা করি, কাল একটা দারুণ ম্যাচ উপহার দিতে পারব।’

ইরান নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক জাহরা গানবারি
ইরান নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক জাহরা গানবারি, এএফসি
 

ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৮ নম্বরে থাকা ইরানের গ্রুপে এবার দক্ষিণ কোরিয়া (র্যাঙ্কিং ২১) ছাড়াও আছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া (১৫) ও ফিলিপাইন (৪১)। অধিনায়ক গানবারিও কোচের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বললেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো। দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া বা ফিলিপাইন—সবাই শক্তিশালী ঠিকই, তবে আমরা বিশ্বকাপে যাওয়ার লক্ষ্যেই লড়ব।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে ইরানের মেয়েরা যখন গোল্ড কোস্ট স্টেডিয়ামের মাঠটা পরখ করতে নামলেন, তখন তাঁদের চেহারায় কোনো উদ্বেগের ছাপ নেই। একে অপরের ছবি তুলছেন, হাসছেন।

কিন্তু সেই হাসির আড়ালে কি দেশের জন্য দীর্ঘশ্বাস লুকানো ছিল না? কাল যখন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তাঁরা নামবেন, গ্যালারির গর্জন ছাপিয়ে তাঁদের কানে কি বাজবে তেহরানে একের পর বিস্ফোরণের শব্দ।

কিংবা হয়তো ফুটবলই এখন তাঁদের একমাত্র আশ্রয়, দমবন্ধ পরিস্থিতিতে একটুখানি নিশ্বাস নেওয়ার খোলা জানালা!

অসাধারণ স্যামসন, নাকি আরও বেশি কিছু

এই ইনিংসকে অসাধারণ বললেও কম হবে! ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রান করেছেন। তাতে সেই অর্থে তেমন ঝুঁকিও নেননি। ৫০ করে বাড়তি উল্লাস করেননি, মনযোগ ধরে রেখে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন।

অথচ এই সঞ্জু স্যামসনই ভারতের মূল একাদশে জায়গা পেতেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের হারের পর একাদশে সুযোগ পান ওপেনার।

স্যামসনকে সাপোর্ট দিয়েছেন অন্যরাও। তিলকের ১৫ বলে ২৭, পান্ডিয়ার ১৪ বলে ১৭ রানের ছোট ইনিংসগুলোতে তাঁর কাজটা সহজ হয়েছে। ভারত পেয়েছে ৫ উইকেটের জয়। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

মুম্বাইয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ভারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৯৫/৪ ( চেজ ৪০, হোল্ডার ৩৭*, পাওয়েল ৩৪*; বুমরা ২/৩৬, পান্ডিয়া ১/৪০)। ভারত: ১৯.২ ওভারে ১৯৯/৫ (স্যামসন ৯৭*, তিলক ২৭; হোল্ডার ২/৩৮, শামার ২/৪২)। ফল: ভারত ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: সঞ্জু স্যামসন

চ্যাম্পিয়ন হলে অপরাজিতই হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বের পর সুপার এইটেও তাদের হারাতে পারেনি কোনো দল।

এই পর্বের শেষ ম্যাচে আজ দিল্লিতে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগে ব্যাট করে তাদের সামনে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওই রান ১৩ বল হাতে রেখে ছুঁয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা।

সিকান্দার রাজা ছাড়া আর কারও ব্যাটই সেভাবে ভরসা জোগাতে পারেনি। রাজা আউট হয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল দেড় শও হয়তো করতে পারবে না জিম্বাবুয়ে। তবে ক্লাইভ মাদান্দের ২০ বলে করা ২৬ রানের ইনিংসে তা করেছে জিম্বাবুয়ে।

পরে আর কাজটা কঠিন হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। ২৪ বলে ক্রিস্টিয়ান স্টাবস ২১ ও জর্জ লিন্ডা ২১ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

এই ম্যাচ দিয়েই শেষ হয়েছে জিম্বাবুয়ের এবারের বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেলে সুপার এইটে এলেও কোনো ম্যাচ না জিতেই তারা বিদায় নিচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল আগেই, শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।