• Colors: Blue Color

চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েক দেশ এখনই ছাড়তে মার্কিন নাগরিকদের তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।

আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ভেরিফায়েড ফেসবুক ও এক্সে দেওয়া পোস্টে এই তাগিদ দেওয়া হয়।

দেশগুলো হলো, বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন (পশ্চিমতীর ও গাজা), জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। সেদিন ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হন। জবাবে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। পাশাপাশি তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্সের ফেসবুক পেজ

ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার সময়কাল নিয়ে মিশ্র বার্তা পাওয়া গেছে। সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, তারা এই যুদ্ধ দীর্ঘ সময় চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী নন।

নেতানিয়াহু বলেন, আমরা যুদ্ধ শুরু করেছি একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের জন্য, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়। তবে যুদ্ধ কতদিন চলবে, তা স্পষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমরা যুদ্ধ শুরু করেছি। বাকি বিষয়টি ইরানের জনগণই দেখবে। তারাই নিজেদের রেজিম পরিবর্তন করবে। এই মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি করা।

নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশংসা করে বলেন, ট্রাম্প এক কথার মানুষ। তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্পষ্টবাদী এবং যা পারেন, তাই করেন।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, চলমান অভিযান আরও চার সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নিতে পারে। তিনি জানান, দেশটি বড়। তবে তারা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, চার সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে না।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আধিপত্য দ্রুত ও নির্ভুল আঘাত নিশ্চিত করতে সক্ষম হলেও, ইরানের জটিল সামাজিক-রাজনৈতিক কাঠামো এবং দীর্ঘদিনের মতাদর্শিক ভিত্তি শুধুমাত্র শীর্ষ নেতৃত্ব সরিয়ে দিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

 

ঢাকায় আসছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বা সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুর।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকায় পা রাখার কথা রয়েছে তার।

সোমবার (২ মার্চ) ঢাকার মা‌র্কিন দূতাবা‌সের মুখপাত্র পূর্ণিমা রাইয়ের পাঠা‌নো এক বিবৃ‌তি‌তে এই তথ্য নিশ্চিত করা হ‌য়ে‌ছে।

বিবৃ‌তি‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে, এই সফরের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা। সফরকালে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল কাপুর নতুন সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে মা‌র্কিন দূতাবা‌সের বিবৃতিতে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার প্রথম ঢাকা সফর।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ৩ থেকে ৫ মার্চ ঢাকা সফর করবেন পল কাপুর। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি হিসেবে তার এ সফরকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরকালে তিনি সরকারের বাণিজ্য, অর্থ, জ্বালানি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। 

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পল কাপুরের সফরটি রাজনৈতিক হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যে বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে, এই সফরে তা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেবে ওয়াশিংটন। সফরে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা সমস্যা এবং আঞ্চলিক ইস্যু- বিশেষ করে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরান নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

এর আগে, নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। সেই বৈঠকেই পল কাপুরের ঢাকা সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিজেদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে ক্ষোভে ফুঁসছে ইরান। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক হামলা করে যাচ্ছে দেশটি।

এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র কাতারেও চলছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। এরই মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনীর ছোড়া ড্রোন জোরালো আঘাত হেনেছে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির দুটি স্থাপনায়। এ অবস্থায় সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে কাতারএনার্জি।

সোমবার (২ মার্চ) এক বিবৃতির মাধ্যমে এ ঘোষণা দিয়েছে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিটি।

বিবৃতিতে কাতারএনার্জি বলেছে, কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি ও মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে কাতারএনার্জির পরিচালনা কেন্দ্রগুলোতে সামরিক হামলা হয়েছে। যে কারণে কাতারএনার্জি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে।

বিবৃতিতে অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন মেসাইদ এলাকার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির ট্যাংকে আঘাত হেনেছে এবং অন্যটি রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে কাতারএনার্জির একটি জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী প্রধানের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)।

ইরানের সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি আজ সোমবার রেভল্যুশনারি গার্ডের বিবৃতির বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জায়নবাদী শাসনের অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বিমানবাহিনী প্রধানের সদর দপ্তরকে নিশানা করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

সূত্র: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের পরমাণুবিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের দূত রেজা নাজাফি আজ সোমবার এ কথা বলেছেন। 

আজ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৩৫ সদস্য দেশের বোর্ড অব গভর্নরস–এর বৈঠক হয়। ওই সময় সাংবাদিকদের নাজাফি বলেন, গতকাল তারা আবারও ইরানের শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে হামলা করেছে।’

এ সময় রয়টার্সের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, কোন পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা হয়েছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘নাতাঞ্জ’।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব