• Colors: Green Color

ছক্কার রেকর্ড

৩৪
ভারত–ইংল্যান্ড ম্যাচে ছক্কা হয়েছে ৩৪টি। বিশ্বকাপে এটাই সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।

অবিশ্বাস্য ম্যাচ

৪৯৯
ভারত ২৫৩, ইংল্যান্ড ২৪৬—৪৯৯। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের ম্যাচ, সব মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
২৩: ২১ , মার্চ ০৫

অবিশ্বাস্য বেথেল, তবু...

২২ বছর বয়সী বেথেল মুম্বাইয়ে দেখালেন কেন তাঁকে স্পেশাল ট্যালেন্ট বলা হয়। করলেন ৪৫ বলে সেঞ্চুরি। তবে এটিও যথেষ্ট হলো না। শেষ পর্যন্ত জিতেছে ভারত।২৫৩ রান তাড়ায় ইংল্যান্ড থেমেছে ২৪৬ রানে।

১৮ ওভার পর্যন্ত ম্যাচে ভালোভাবেই ছিল ইংল্যান্ড। শেষ ২ ওভারে তাদের লাগত ৩৯ রান। এই ২ ওভার করেছেন হার্দিক পান্ডিয়া ও শিবম দুবে। তবে পান্ডিয়া ১৯তম ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়েছেন। কারেনের ১৪ বলে ১৮ রানের ইনিংসটাও ইংল্যান্ডকে পিছিয়ে দিয়েছে।

রোববার বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ভারত: ২০ ওভারে ২৫৩/৭ (স্যামসন ৮৯, দুবে ৪৩, কিষান ৩৯; জ্যাকস ২/৪০, রশিদ ২/৪১)। ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২৪৬/ ৭ (বেথেল ১০৫, জ্যাকস ৩৫; পান্ডিয়া ২/৩৮, বুমরা ১/৩৩)। ফল: ভারত ৭ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: সঞ্জু স্যামসন।

ব্যাট হাতে অনবদ্য এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন টাইগ্রেস অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক তিন অঙ্কের মাইলফলক স্পর্শ করলেও অল্পের জন্য সেঞ্চুরির নাগাল পাননি টপ অর্ডার ব্যাটার শারমিন আক্তার।

অধিনায়কের সেঞ্চুরিতে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর করেছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে টাইগ্রেসদের সংগ্রহ ২৭১ রান।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন গ্রাউন্ডে টস হেরে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ। ম্যাচে ফিফটির দেখা পেয়েছেন ওপেনার ফারজানা হক পিংকিও। মূলত এই তিন ব্যাটারের ইনিংসে ভর করেই নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচে বড় সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। 

ইনিংসের শুরুতে দলীয় ১৫ রানেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তানজিম। এরপর শারমিনের সঙ্গে ১০৪ রানের জুটি গড়েন ফারজানা। দলীয় ১১৯ রানে ফারজানার বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। ৮২ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৫৩ রান তোলেন ফারজানা। এরপর জ্যোতির সঙ্গে ১৫২ রানের বড় জুটি গড়েন শারমিন। যেখানে জ্যোতি সেঞ্চুরি পেলেও ৯৪ রানে অপরাজিত থাকেন শারমিন। ৮০ বলে ১৫ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় জ্যোতি ফেরেন ১০১ রান করে। তার বিদায়ে বাংলাদেশ থামে ২৭১ রানে।

থাইল্যান্ডের হয়ে মায়া, পুত্তাংয়ু ও কামছম্পু নেন একটি করে উইকেট।

বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপ থেকে ইরান তাদের সব ম্যাচ খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে দলটির বেজক্যাম্প হবে মেক্সিকোর তিহুয়ানা শহর। সেখান থেকে নিজেদের প্রতিটি ম্যাচের এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে ইরান ফুটবল দল। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) এই তথ্য নিশ্চিত করে।

এর আগে গত সপ্তাহের শেষ দিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদাহর বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরানকে ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে হবে এবং ম্যাচ শেষেই ফিরে যেতে হবে।

কিন্তু হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরান দলকে ম্যাচের দিনই আসতে বাধ্য করার বিষয়টি সত্য নয়। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘দাবিগুলো সঠিক নয়। প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্পের উদারতায় ইরান দল ম্যাচের এক দিন আগেই ভেন্যুতে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে।’

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ, ফিফা
 

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের মুখপাত্র আমির মেহদি আলাভি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ফিফার নিয়ম মেনেই পুরো দল একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে করে যুক্তরাষ্ট্রে যাবে।’ তাঁর এই বিবৃতি প্রকাশ করে ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ। আলাভি আরও বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের এক দিন আগে দল ভেন্যু শহরে পৌঁছাবে। তবে পরের দুটি ম্যাচের ক্ষেত্রে আমরা দুই দিন আগেই ভেন্যুতে চলে যাব।’

গত সোমবার তিজুয়ানায় দোভাষীর মাধ্যমে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানি রাষ্ট্রদূত ফেডারেশনের কিছু কর্মকর্তার ভিসা বাতিলের তীব্র সমালোচনা করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যাঁদের ভিসা দেওয়া হয়েছে, তাঁদের রাতে থাকার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তিনি বলেন, ‘তাঁদের ভিসায় এমন কোনো শর্ত নেই যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দেশ ছাড়তে হবে।’

কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে গত শুক্রবার, অর্থাৎ ইরানের প্রথম ম্যাচের মাত্র ১০ দিন আগে তাঁদের সব ফুটবলারকে ভিসা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের তথ্যমতে, দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এখনো ভিসা পাননি। মেক্সিকোতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসা না পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন দলের ম্যানেজার, দুজন বিশ্লেষক, মিডিয়া পরিচালক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি।

তিহুয়ানায় ম্যারিয়ট হোটেলের সামনে ইরানের এক সমর্থক। এই হোটেলেই উঠেছে ইরান ফুটবল দল
তিহুয়ানায় ম্যারিয়ট হোটেলের সামনে ইরানের এক সমর্থক। এই হোটেলেই উঠেছে ইরান ফুটবল দলএএফপি

বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইরান। এরপর ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়াম ও ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে খেলবে তারা। বিশ্বকাপে ইরানের ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় বেজক্যাম্প করার কথা ছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়।

এর আগে গত মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণে কোনো আপত্তি নেই। তবে ‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে’ ইরানি দলের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করাটা সমীচীন হবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় রোববার (৭ জুন) ভোর ৪টায় যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও'র হান্টিংটন ব্যাংক ফিল্ডে মিশরের মুখোমুখি হয় সেলেসাওরা। 

ম্যাচের শুরুতেই ব্রাজিল এগিয়ে যায়। ৭ মিনিটে মিশরের মিডফিল্ডার মোহানাদ লাশিনের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন ব্রুনো গিমারায়েস। তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি মিশর। মাত্র কয়েক মিনিট পর ব্রাজিল অধিনায়ক মারকুইনিওসের ভুল ব্যাকপাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতায় ফেরান মোস্তাফা জিকো।

প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর বিরতির পরপরই আবারও এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ৫২ মিনিটে রাফিনিয়ার নিখুঁত পাস থেকে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন তরুণ তারকা এন্ড্রিক। তার এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়।

বিশ্বকাপের আগে নিজেদের কৌশল পরীক্ষা করে দেখতে উভয় দলই আনে একাধিক পরিবর্তন। ম্যাচের শেষ দিকে মিশর সমতা ফেরানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করলেও ব্রাজিলের রক্ষণভাগ তা সামলে নেয়।

এদিকে, মিশর হারলেও দলের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইর ছিলেন উজ্জ্বল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিসহ ব্রাজিলের একাধিক আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি।

এই ম্যাচে আবারও প্রমাণ হয়েছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে শক্তির ব্যবধান ক্রমেই কমছে। বড় দলগুলোর জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে তুলনামূলক কম শক্তিশালী দলগুলো। তবে, বিশ্বকাপের আগে এই জয় ব্রাজিলকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। অন্যদিকে পরাজিত হলেও ইতিবাচক কিছু দিক নিয়ে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে পারবে মিশর।

হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে না ওঠায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়াই মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। গতকাল রোনালদোকে ছাড়াই বিশ্বকাপের আগে পর্তুগালের শেষ দুটি ম্যাচের দল ঘোষণা করেছেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে খেলতে নেমে মাংশপেশিতে চোট পান রোনালদো। এখনো সেই চোটের সঙ্গে লড়ছেন তিনি। দুই সপ্তাহ ধরে মাদ্রিদে চিকিৎসা নিলেও সময়সমতো সেরে উঠতে পারেননি এই পর্তুগিজ কিংবদন্তি। ২৮ মার্চ আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। ৩ দিন পর জর্জিয়ার আটলান্টা স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে মার্তিনেজের দল।

৪১ বছর বয়সী রোনালদো আগামী বিশ্বকাপে খেলতে চান। পর্তুগাল কোচ মার্তিনেজ জানিয়েছেন, এই চোটে তাঁর বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ঝুঁকিতে পড়েনি। তাঁর ভাষায় ‘এটা ছোটখাটো চোট।’ রোনালদো আগামী ‘এক থেকে দুই সপ্তাহের’ মধ্যে মাঠে ফিরতে পারেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মার্তিনেজ বলেন, ‘রোনালদো এ মৌসুমে যা করেছে, তাতে বোঝা যায় সে দারুণ এক সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে এবং কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। বিশ্বকাপে (পর্তুগালের) সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও গনসালো রামোসের জন্য থাকবে। তাদের বাইরে আমরা একজন তৃতীয় স্ট্রাইকার খুঁজছি।’

পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ
পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ, এএফপি
 

দুটি প্রীতি ম্যাচেও যে সেই খোঁজ চলবে, সেটির ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার এটাই শেষ সুযোগ। কারণ, বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগে এটাই শেষ ক্যাম্প।’

আল নাসরের ম্যাচে চোট পান রোনালদো
আল নাসরের ম্যাচে চোট পান রোনালদো,এএফপি
 

আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর গোলসংখ্যাই সর্বোচ্চ। ২২৬ ম্যাচে ১৪৩ গোল করেছেন। এবারের বিশ্বকাপে সেই সংখ্যাটা তো বাড়াতে চাইবেন, রোনালদো নিশ্চিতভাবেই চাইবেন আরাধ্য বিশ্বকাপটাও জিততে।

বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে থাকা পর্তুগাল আগামী ১৭ জুন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে পর্তুগাল। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপ।

লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে তখন ঘড়ির কাঁটা ৭৪ মিনিট ছুঁই ছুঁই। আর্সেনাল সমর্থকদের চোখেমুখে রাজ্যের দুশ্চিন্তা। এভারটনের রক্ষণে বারবার আছড়ে পড়ছে ‘গানার’দের আক্রমণ, কিন্তু গোলের দেখা নেই। উল্টো গোলপোস্ট আর ভাগ্য সহায় না হলে পিছিয়েই পড়তে হতো স্বাগতিকদের। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন শিরোপা দৌড়ে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগটা বুঝি এবার ফসকে যাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা মিডফিল্ডার মার্তিন জুবিমেন্দিকে তুলে নিয়ে মাঠে নামালেন ১৬ বছরের এক কিশোরকে—ম্যাক্স ডাউম্যান, যাঁর এখনো জিসিএসই পরীক্ষাই শেষ হয়নি!

আরতেতার সেই বাজিই শেষ পর্যন্ত ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হয়ে দাঁড়াল। ডান দিক থেকে ডাউম্যানের এক নিরীহদর্শন ক্রস বিপক্ষ গোলরক্ষক এভারটন জর্ডান পিকফোর্ডকে ভুল লাইনে টেনে আনল। সেই সুযোগে ফাঁকা জালে বল ঠেলে আর্সেনালকে এগিয়ে দিলেন ভিক্টর ইয়োকেরেস। এরপর ডাউম্যান যা করলেন, তা রূপকথাকেও হার মানায়। এভারটনের এক কর্নার থেকে বল পেয়ে নিজের পায়ে ৬১.৩ মিটার টেনে নিয়ে গিয়ে করলেন দেখার মতো এক গোল। ১৬ বছর ৭৩ দিন বয়সে গোল করে ডাউম্যান ভেঙে দিলেন প্রিমিয়ার লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড।

আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা
আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা, এএফপি
 

ডাউম্যানের ওই গোল হয়তো ম্যাচের ফলাফল বদলে দেয়নি, গোলটি না হলেও আর্সেনাল ১-০ ব্যবধানে জিতত। কিন্তু ওই গোল এবং এই মৌসুমে ‘সুপার সাব’দের কাছ থেকে পাওয়া এমন অনেক গোলেই লুকিয়ে আছে আর্সেনালের সাফল্যের একটা রহস্যও।

এবারের মৌসুমে বদলি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ১১টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট (গোলে সহযোগিতা) পেয়েছে গানাররা। এর মানে মোট ২১টি গোলে অবদান এবার আর্সেনালের সুপার সাবদের, যা প্রিমিয়ার লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে অন্তত ৭টি বেশি।

চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে শুধু ১১ জনে আসলে হয় না, লাগে এক শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চ। আর্সেনাল এবার ঠিক সে পথেই হাঁটছে। মার্টিন ওডেগার্ড, ইয়োকেরেস কিংবা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি—যখনই কেউ বেঞ্চ থেকে মাঠে নামছেন, তখনই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিচ্ছেন। সিটির বিপক্ষে ম্যাচে মার্তিনেল্লির সমতাসূচক গোল কিংবা নিউক্যাসলের বিপক্ষে মিকেল মেরিনোর গোল—সবই এসেছে বেঞ্চ থেকে।

এর ঠিক উল্টো চিত্র ম্যানচেস্টার সিটিতে। পেপ গার্দিওলার হাতে চেরকি, ডকু, ফোডেন বা রেইন্ডারসের মতো তারকা থাকলেও তাঁরা বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচ জেতাতে পারছেন না। এই মৌসুমে সিটির বদলি খেলোয়াড়েরা গোল করেছেন মাত্র একটি, সেটিও সেই উদ্বোধনী সপ্তাহে উলভসের বিপক্ষে। এরপর ২৯ ম্যাচে সিটির কোনো বদলি খেলোয়াড় জালের দেখা পাননি। অথচ গত শনিবার ওয়েস্ট হামের বিপক্ষে ড্র ম্যাচেও ডকু-ফোডেনদের নামিয়েছিলেন পেপ, কিন্তু লাভ হয়নি।

 
আর্সেনাল এখন সিটির চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে। গার্দিওলার হাতে রত্নভান্ডার থাকলেও সেটা কাজে লাগছে না। অন্যদিকে আরতেতা তাঁর তুরুপের তাসগুলো ব্যবহার করছেন নিখুঁতভাবে। গত মৌসুমে ব্রাইটনের গড়া বদলিদের ২৫ গোলের অবদানের রেকর্ডটি এবার ভেঙে দিতে পারে আর্সেনাল।

কে জানে, আরতেতার এই সুপার সাবরাই হয়তো শেষ পর্যন্ত এমিরেটসে উৎসবের আবির ওড়াবেন!

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব