• Colors: Purple Color

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বুধ ও বৃহস্পতিবার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোট গ্রহণের সুবিধার্থে সারাদেশে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

 

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণ ছুটি আরও বাড়লো। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এই উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ও ৬-৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার-শনিবার) যথাক্রমে সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটি থাকার কারণে কেবল এক দিনের ছুটি নিলে টানা চার দিনের বিশ্রাম পাওয়া যাবে।

এছাড়া, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন ও তার আগের দিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর পরবর্তী দুইদিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় এখানে আবারও টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ১১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে সাধারণ ছুটি থাকবে। ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ছুটি এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সরকারি ছুটি থাকবে যা পূর্বেই ঘোষণা করা হয়েছিল।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, চলতি বছরে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন, হিন্দুদের জন্য ৯ দিন, খ্রিস্টানদের জন্য ৮ দিন, বৌদ্ধদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন বিশেষ ছুটি থাকবে।

ফেব্রুয়ারিতে এই ছুটির সুবিধায় সরকারি কর্মচারীরা লম্বা সময় বিশ্রাম নিতে পারবে।

 

মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ও স্মৃতিমাখা মাসের দিন গণনা শুরু হলো। আজ থেকে বাজবে ভালোবাসা গানের সুর, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি।’

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে জীবন উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রভাষার দাবি বাঙালির প্রতিষ্ঠিত হয়। বাঙালি তার ভাষাভিত্তিক পরিচয় লাভ করে এ মাসে আত্মত্যাগের মাধ্যমে।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্মৃতি স্মরণের মাস এ ফেব্রুয়ারি। বাঙালির কাছে এ মাস ভাষার মাস, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার মাস। তাই বাঙালি জাতি পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে ভালোবাসা জানায় ভাষাশহীদদের প্রতি।

১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর মধ্য দিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয়।

পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল, গণপরিষদের সভাপতি ও মুসলিম লিগের সভাপতি মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভায় বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনো ভাষা নয়।’ কার্জন হলে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার কথা বলার পর কয়েকজন ছাত্র ‘না’ ‘না’ বলে চিৎকার করে প্রতিবাদ করেছিলেন, যা জিন্নাহকে অপ্রস্তুত করেছিল। এ ঘটনার পর জিন্নাহকে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছিল একদল ছাত্র। এতে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানানো হয়। সেই শুরু হয় রাষ্ট্রভাষার দাবিতে আন্দোলন। দীর্ঘ এ আন্দোলন ১৯৪৭ থেকে চলতে থাকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত।

বাংলা ভাষার সমমর্যাদার দাবিতে পূর্ব বাংলায় আন্দোলন ক্রমে দানা বেঁধে ওঠে। আন্দোলন দমনে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুসংখ্যক ছাত্র ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী মিলে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি এলে পুলিশ ১৪৪ ধারা অবমাননার অজুহাতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে নিহত হন সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ নাম না জানা আরো অনেকে। তাদের এ আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি জাতি পায় মাতৃভাষার মর্যাদা।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ও গণনার প্রতিটি ধাপ থাকবে কঠোর নজরদারির আওতায় থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ডিজিটাল সেল ও পর্যবেক্ষণ টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

সানাউল্লাহ জানান, প্রবাসীদের ব্যালটে মোট ১১৯টি প্রতীক থাকায় গণনায় কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে। ব্যালট নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক থাকায় জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভোটকেন্দ্রে সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু প্রিজাইডিং অফিসার কলম ব্যবহার করতে পারবেন। অন্য কর্মকর্তাদের জন্য থাকবে পেন্সিল। প্রতিটি আসনে ১০ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন।

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে অর্থ লেনদেনে সীমা নির্ধারণ করা হবে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরনের আপ্যায়ন গ্রহণ না করার নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অপতথ্য প্রতিরোধে দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচার করতে হবে। পাশাপাশি বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও আহত ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাচনকে স্বচ্ছ রাখতে প্রতিটি জেলা ও কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বড় দল হোক বা ছোট দল, পক্ষপাতমূলক আচরণ সহ্য করা হবে না। যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সভায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ৫ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হবে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এদিন ধার্য করেন। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়।

এ মামলায় ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল কারাগারে আছেন। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনো পলাতক।

গত বছরের ২১ আগস্ট এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্ট ৬ জনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেয়া হয়। তবে সে সময়েও জীবিত ছিল একজন। এ ছাড়া ৪ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে একজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।

 

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ‘পাল্টা শুল্ক’ হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এদিন চূড়ান্ত চুক্তি হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যে। সম্ভাব্য চুক্তিতে মার্কিন তুলায় তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বোয়িং বিমান কেনা ও জ্বালানি খাতে আমদানির মতো বড় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে চুক্তির খসড়া এবং ৯ ফেব্রুয়ারি তা স্বাক্ষর করার জন্য অনুমোদন চেয়ে আমরা সামারি পাঠিয়েছি। এটি অনুমোদিত হয়ে এলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রথমে ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’ ঘোষণা করে আলোচনার সুযোগ রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে গত ৩১ জুলাই পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে এ জন্য দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিসহ বাংলাদেশকে বেশ কিছু ছাড় দিতে হয়।

শুল্ক কত শতাংশ হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ আছে। অন্যান্য দেশেও একই আছে, আবার অনেক দেশে বেশি আছে। তবে, আমরা আশা করছি হয়তো কিছু কমতেও পারে; সে ধরনের একটি ধারণা আছে। তবে, নিশ্চিত করে বলতে পারব না; এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। আমরা খসড়া করেছি, তবে শুল্ক কত হবে সেটি নির্ধারণ করতে ৯ তারিখ পর্যন্ত সময় নেওয়া হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সুবিধা পেতে বাংলাদেশকেও বেশ কিছু ছাড় দিতে হচ্ছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্কের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ কার্যকর করলেও দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি। পরে এই শুল্কহার আরও কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায় উৎপাদিত পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখে ঢাকা, যা চূড়ান্ত হয়ে চুক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি ভারত ইইউ-এর সঙ্গে একটি এফটিএ (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) স্বাক্ষর করেছে— এটি নিয়ে সরকার কি উদ্বিগ্ন? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এখানে উদ্বেগের কিছু নেই। আমরা তৈরি পোশাক খাতে গত ৪৫ বছর ধরে সক্ষমতা অর্জন করেছি এবং আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। আমাদের এই খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো আছে। এই সক্ষমতা অন্য কেউ রাতারাতি অর্জন করে ফেলবে বলে আমাদের মনে হয় না।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন ভারত বেসিক টেক্সটাইলে বেশ শক্তিশালী এবং বিশ্ববাজারে তাদের ভালো অবস্থান আছে। আমরা কাঁচামালও তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করি। কাজেই এই দুই দেশ এখনো পরিপূরক (কমপ্লিমেন্টারি) অবস্থায় আছে। তাদের উপকরণ উৎপাদন এবং নিজস্ব তুলাও আছে। ফলে ভারত আমাদের প্রতিযোগী নয়, বরং পরিপূরক।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর অনেক সুযোগ-সুবিধা হারানোর পাশাপাশি নতুন শুল্ক যুক্ত হবে—সেক্ষেত্রে এফটিএ নিয়ে সরকার নতুন কিছু ভাবছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, হ্যাঁ, আমরা অনেকগুলো দেশের সাথে এফটিএ করছি। আমরা জাপানের সাথে এফটিএ-র নেগোসিয়েশন শেষ করেছি। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সাথে এফটিএ স্বাক্ষরিত হবে।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং আশা করছি এই বছরের মধ্যেই তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আমরা এফটিএ-র প্রস্তাব পাঠিয়েছি এবং অন্যান্য যেসব বাজারে আমরা শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাই, সবগুলোর কাছেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেখানে আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে।

রমজানের প্রস্তুতির ব্যাপারে তিনি বলেন, রমজানের বাজার পরিস্থিতি, নিত্যপণ্যের মূল্য এবং রমজানভিত্তিক নির্দিষ্ট পণ্যগুলোর সরবরাহ নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বছরের অবস্থা ভালো।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বিমান ক্রয়ের বিষয়টি আলোচনায় আছে। বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমেরিকার সাথে এই চুক্তির আগেও পরিকল্পনা ছিল। শুধু বোয়িং নয়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথেও আলোচনা ছিল। সেটি এখন একটি কাঠামোগত রূপ পেয়েছে। আমেরিকান রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ প্রসঙ্গে যতদূর জানি, তাদের সাথে নেগোসিয়েশন চলছে। বোয়িং কতগুলো এবং কোন বছর সরবরাহ করতে পারবে, দাম কী হবে এবং বিমানের ভেতরের কনফিগারেশন কেমন হবে— এসব নিয়ে আলোচনা চলছে।

এখানে যুদ্ধবিমানও আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, যুদ্ধবিমান এই চুক্তির আওতায় কখনোই আসবে না। মিলিটারি ইস্যু কখনো ট্রেড ইস্যুতে থাকে না।

গত ছয় মাসে রপ্তানি ৩.৭ শতাংশ নেতিবাচক— যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। এ নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, আমরা পর্যালোচনা করেছি। বিশ্ববাণিজ্যে ৩.৭ শতাংশ ঘাটতি হয়েছে। আমরা তো পৃথিবীর বাইরে নই, সেই হিসেবে আমাদের ওপর প্রভাব পড়েছে। তবে, আমাদের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ নয়, বরং ১.৬ শতাংশের মতো। অর্থাৎ গ্লোবাল অ্যাভারেজের চেয়ে আমরা ভালো অবস্থায় আছি।

যুক্তরাষ্ট্রের তুলা দিয়ে উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চুক্তিতে থাকবে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে এক দেশের উপকরণ ব্যবহার করলে কিউমুলেশন বেনিফিট পাওয়ার আশা থাকে। এটি একটি প্রগতিশীল প্রক্রিয়া এবং এ ধরনের সুবিধার জন্যই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায় উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়ে আসছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলে তা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রপ্তানি বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিও বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৪৬ মিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৭৮ মিলিয়ন ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার এখনো যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬০০ কোটি ডলার থেকে কমাতে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫০ কোটি ডলারের আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী কয়েক বছরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনবে সরকার, যাতে খরচ হতে পারে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কিছুটা বাড়তি দামে প্রতিবছর সাত লাখ টন করে গম আমদানি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক পণ্য, বেসামরিক উড়োজাহাজ যন্ত্রাংশ, জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল ও তুলার আমদানি বাড়ানো এবং এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হবে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব