যশোরে বিপুল পরিমাণ হীরা (ডায়মন্ড) ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ সুজা উদ্দিন (৫২) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিন সকালে যশোর সদর উপজেলার নতুনহাট বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক সুজাউদ্দিন ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের আবু বক্করের ছেলে।
উদ্ধারকৃত মালামালের বাজারমূল্য আনুমানিক ৬ কোটি ৬২ লাখ ৬৫ হাজার ১৬১ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সংবাদ সম্মেলনে যশোর ৪৯ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে তারা যশোর সদর উপজেলার যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট বাজার এলাকায় তল্লাশি চালান। এসময় বেনাপোলগামী একটি বাস থেকে সুজাউদ্দিনকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ১৫৫.৭৬ গ্রাম ওজনের হীরা ও বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত হীরাগুলো বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষা করে সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজাউদ্দিন জানান, তিনি এই হীরা ঢাকা থেকে সংগ্রহ করে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতের কলকাতায় পাচারের উদ্দেশে নিয়ে যাচ্ছিলেন। গত এক মাসে তিনি থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ ও ভারতে একাধিকবার যাতায়াত করেছেন।

বিজিবি অধিনায়ক আরও জানান, জব্দকৃত হীরার মূল্য ৬ কোটি ৬১ লাখ ৩৯ হাজার ৫১০ টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য ৫ হাজার ৫৩০ টাকা। আটক ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া, জব্দকৃত হীরা ও মুদ্রা যশোরের ট্রেজারিতে জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট জ্বালানিসংকটে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সহযোগিতায় ভারতের হাত প্রসারিত আছে। নিজেদের প্রয়োজন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভারত প্রতিবেশীদেরও সাহায্য করে চলেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেই সহযোগিতার ওপর আলোকপাত করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জ্বালানিসংকটে প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশকে ভারত জ্বালানি দিচ্ছে ২০০৭ সাল থেকেই। এ বিষয়ে দুই দেশের বাণিজ্যিক বোঝাপড়া রয়েছে। এই সহযোগিতা আজও অব্যাহত। জ্বালানির প্রয়োজন মেটাতে শ্রীলঙ্কার দিকেও ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কাকে ৩৮ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোপণ্য দেওয়া হয়েছে, যা তারা চেয়েছিল। নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ভারতের সহযোগিতাও অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

জয়সোয়াল বলেন, সম্প্রতি মালদ্বীপ সরকারের কাছ থেকেও একটি অনুরোধ এসেছে। সে দেশের সরকার ভারত থেকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে পেট্রোপণ্য সরবরাহে আগ্রহ দেখিয়েছে। নিজেদের প্রয়োজন ও মজুতের কথা মাথায় রেখে মালদ্বীপের অনুরোধ বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মরিশাস ও সেশেলশের সঙ্গেও ভারত যোগাযোগ রেখেছে বলে তিনি জানান। জয়সোয়াল বলেন, তবে ওই দুই দেশ জ্বালানি সরবরাহ করা নিয়ে কোনো অনুরোধ ভারতকে করেনি।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের আসন্ন ভারত সফর নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। এই সফর ঘিরে ভারতের প্রত্যাশার কথা জানতে চাওয়া হলে মুখপাত্র বলেন, সফর চূড়ান্ত হলে ঠিক সময়ে সব জানানো হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে (আইসিটি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো চিঠি প্রসঙ্গে ভারতের অভিমত জানতে চাওয়া হয়েছিল। জয়সোয়াল বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, গণভোট অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ চলতি অধিবেশনে অনুমোদন করা হচ্ছে না। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশসহ চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। অন্য ১৬টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তী সময়ে যাচাই–বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে করা জুলাই গণ–অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশসহ ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ম অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে (১২ মার্চ) উপস্থাপন করা হয়। পরে এগুলো যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করে সংসদ।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ সংসদে হুবহু বিল আকারে তোলা এবং ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে বিল তোলার জন্য সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। অন্য ২০টির মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই সংসদে বিল আনয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদিত হচ্ছে না। এর ফলে নির্দিষ্ট সময় শেষে এগুলোর কার্যকারিতা লোপ পাবে। সংবিধানে বলা আছে, কোনো অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন করা না হলে তার কার্যকারিতা লোপ পাবে।

এর মধ্যে মোট ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে বিশেষ কমিটিতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দিয়েছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য।

যে চারটি রহিত করার সুপারিশ

চারটি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬।

সংবিধানে বিচারক নিয়োগে আইন করার কথা থাকলেও এত দিন এটা হয়নি। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ করেছিল। এতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করবে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র এই কাউন্সিল যোগ্য ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতি বরাবর সুপারিশ করবে।

অন্যদিকে অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এ অধ্যাদেশ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা হলে অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ–সংক্রান্ত সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে এই সচিবালয়।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটিবিষয়ক সব সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় এই সচিবালয়ের হাতে থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিবালয়ের সচিব প্রশাসনিক প্রধান হবেন।

এ দুটি অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট আছে জামায়াতে ইসলামীর। বিশেষ কমিটিতে দলটির তিন সদস্য নোট অব ডিসেন্ট দেন।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এসব অধ্যাদেশ জারি করেছিল
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এসব অধ্যাদেশ জারি করেছিল, ফাইল ছবি: বাসস

যে ১৬টি পরবর্তী সময়ে যাচাই–বাছাই

১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়। সেগুলোর মধ্যে আছে ২০২৪ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ সালের রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ সালের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ ও তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ। এগুলো নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত আছে।

পরবর্তী সময়ে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা অন্য অধ্যাদেশগুলো হলো মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ। এগুলো নিয়ে জামায়াতের ভিন্নমত নেই।

এর মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট করার লক্ষ্যে গণভোট অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। আর দুদকের তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধান ক্ষমতা বাড়িয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করা হয় ২০২৫ সালে। এতে সরাসরি এজাহার দায়েরের বিধান, বিদেশে সংঘটিত অপরাধসহ গুরুতর আর্থিক অপরাধকে আইনের আওতায় আনা, কমিশনের সদস্য বাড়ানোর বিধান করা হয়।

রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বিদ্যমান কাঠামো পুনর্গঠন করে রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম পৃথক করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়। এটি নিয়ে কর্মকর্তারা আন্দোলনে নেমেছিলেন।

২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে এটি করা। এটি এখনো কার্যকর হয়নি।

৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু পাসের সুপারিশ

যে অধ্যাদেশগুলো পাস করানোর জন্য হুবহু বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে আছে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কিছু অধ্যাদেশ আছে। বিশেষ পরিস্থিতি ও জনস্বার্থে প্রশাসক নিয়োগের বিধান করা হয়। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের আপত্তি আছে।

এ তালিকায় আছে বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স ২০২৪, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতির পিতার পরিবার–সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, বিশ্ববিদ্যালয়–সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ (বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে উল্লিখিত বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ হাসিনা ইত্যাদি নামের পরিবর্তন)। গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট), জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ। এ ছাড়া বেশ কিছু অধ্যাদেশ আছে, যেগুলো নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত।

সংশোধিত আকারে উত্থাপনের সুপারিশ

১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কোথায় কী সংশোধনী আনা হবে, তা বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এগুলো হলো ২০২৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ, সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট), জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ সালের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ।

এর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংশোধন করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই অধ্যাদেশে কোনো নিদিষ্ট সত্তার কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয় এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল–মিটিং, প্রকাশনাসহ যেসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাস করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কী সংশোধন করা হবে, তার উল্লেখ করা হয়নি।

বাছাই কমিটির মাধ্যমে একটি পুলিশ কমিশন গঠন এবং কমিশন পুলিশের মহাপরিদর্শক নিয়োগের সুপারিশ করবে, নাগরিকদের অভিযোগ ও পুলিশের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিয়ে কাজ করবে—এই লক্ষ্যে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাস করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর নোট অব ডিসেন্ট আছে।

দুই সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আজ বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর তাঁরা পদত্যাগপত্র দেন। তাঁরা হলেন মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম ও আহমদ মুসাননা চৌধুরী।

আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, দুই সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগপত্র তারা পেয়েছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট আহমদ মুসাননা চৌধুরী ও মুজাহিদুল ইসলাম সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। এর পর থেকে তাঁরা দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কর্মরত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের (এএজি) কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষার উদ্যোগ নেন। গত ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলদের এবং গতকাল বুধবার ও আজ (১ ও ২ এপ্রিল) সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের পারফরম্যান্স ইভাল্যুশন টেস্ট (কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা) অনুষ্ঠিত হয়।

দুই সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের (এএজি) পদত্যাগপত্র দেওয়ার আগপর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এএজির সংখ্যা ছিল ২৩০। আর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সংখ্যা ১০৩।

সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ মহাপরিকল্পনায় আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ সক্ষমতা আরও ৬ হাজার ২৫৫ এমভিএ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ও কোম্পানির অধীনে মোট ১ হাজার ৮৩৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র সচল রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে (বাপবিবো) ১ হাজার ৩০৬টি, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে (বাবিউবো) ১৮৭টি, ডিপিডিসির অধীনে ৯৯টি, ওজোপাডিকোর অধীনে ৯৭টি, ডেসকোর অধীনে ৬০টি ও নেসকোর অধীনে ৮৫টি উপকেন্দ্র চালু আছে।

সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ক্ষমতা বাড়াতে বর্তমানে সারাদেশে ১৩৯টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বিশেষ করে পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের মানোন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে সরকার।

তিনি জানান, বাপবিবোর আওতায় বর্তমানে ৫টি প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং ৩টি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ১২৮টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ ও ৭৬টি উপকেন্দ্রের আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে ২ হাজার ৫৪৩ এমভিএ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ২২৬টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে আরও ৩ হাজার ৭১২ এমভিএ সক্ষমতা যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে ২০৩১ সালের মধ্যে ৬,২৫৫ এমভিএ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিতরণের সক্ষমতা তৈরি হবে।

বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে অন্যান্য সংস্থাও পিছিয়ে নেই উল্লেখ করে সংসদকে মন্ত্রী বলেন, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা জোনে নতুন দুটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে ৪টি প্রকল্প চলমান এবং নতুন আরও ৪টি প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। উত্তরাঞ্চলে ৩টি প্রকল্পের কাজ চলমান এবং ১টি নতুন প্রকল্প পরিকল্পনাধীন রয়েছে। সরকারের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ বিভ্রাট অনেকাংশে কমে আসবে এবং শিল্প-কারখানাসহ আবাসিক খাতে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সম্পাদিত আলোচিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে নতুন করে ভাবছে সরকার। অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য ও অসম শর্তের তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি সমাধানে এখন দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসার চিন্তা করা হচ্ছে। এমনকি প্রয়োজন হলে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যাওয়ার কোথাও ভাবছে সরকার। 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সংসদকে মন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালে ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের সমন্বয়ে গঠিত ওই কমিটি চুক্তিটির প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছে।

কমিটির পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সম্পাদিত এই চুক্তিতে বিদ্যুতের দাম তৎকালীন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পর্যালোচনার প্রয়োজনে কমিটি আন্তর্দেশীয় চুক্তি বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও গ্রহণ করেছে।

জাতীয় কমিটিকে উদ্ধৃত করে এরপর মন্ত্রী বলেন, অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এই চুক্তিটি এখন ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকার এখন এই সংকট সমাধানে দুটি পথ বিবেচনা করছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে দ্বারস্থ হওয়া। দ্বিতীয়ত, আদানি পাওয়ারের সাথে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্তসমূহ সংশোধন ও বিদ্যুতের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষায় যা যা প্রয়োজন, সরকার সেই সব কার্যকর পদক্ষেপই গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে করা ২৫ বছর মেয়াদী এক চুক্তির আওতায় ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই এই চুক্তির স্বচ্ছতা ও উচ্চমূল্য নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল।

 

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক নারীকে গলা কেটে হত্যা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজনের একজন ওই নারীর ছেলে, আরেকজন পুত্রবধূ।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব বৈলছড়ি এলাকার মোজাফফর আহমেদের ছেলে মো. কাশেম (২৮) ও তাঁর স্ত্রী নারগিছ আক্তার(২৫। নিহত রেহেনা বেগম (৬২) কাশেমের মা।

র‍্যাব জানায়, রেহেনা বেগম বড় ছেলে প্রবাসী মো. বেলাল, ছোট ছেলে কাশেম ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করতেন। প্রবাসী ছেলে বেলাল মায়ের চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য স্ত্রীর মাধ্যমে কাশেমের কাছে টাকা পাঠাতেন। তবে কাশেম সেই টাকা মায়ের কাছে না দিয়ে নিজেই রেখে দিতেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ লেগে থাকত।

এর জেরে গত বছরের ৫ জুন কাশেম ও তাঁর স্ত্রী নারগিছ মিলে রেহেনা বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেন। ঘটনার পর থেকে তাঁরা আত্মগোপনে ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত রেহেনার ভাই মো. মোক্তার আহমদ বাঁশখালী থানায় মামলা করেন। পরে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে চকরিয়া থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব-৭–এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাঁশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। আগামী শনিবার বিকেলে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে এ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। রাজধানীর গুলশানের একটি বাসায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে হামিদুর রহমান আযাদ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, সরকার যদি সংসদে গণভোটের সমাধান না করে, তাহলে ১১ দলের উদ্যোগে শনিবার বিকেল পাঁচটায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হবে। এ ছাড়া গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনমত গঠনের চেষ্টা করবে বিরোধী দল। একই সঙ্গে গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম করা হবে। এরপরও সরকার জনমতকে উপেক্ষা করলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বিরোধী দল।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকার কর্তৃত্ববাদ ও স্বৈরাচার তৈরির রাস্তা উন্মুক্ত করে গেছে। সেই রাস্তায় শেখ হাসিনা সাংবিধানিক স্বৈরাচার হয়েছিলেন। সেই রাস্তায় বর্তমান সরকার হাঁটছে। এটা ভুল পথ। সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারই করতে হবে। সংস্কার করতে হলে গণভোট মানতে হবে। সে জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে।

সংসদ তথা সরকার এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে রাজপথের আন্দোলন ছাড়া বিরোধী দলের আর কোনো বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, সংস্কারের মধ্য দিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ছাড়া দেশে জ্বালানিসংকট থাকলেও সরকার ছলচাতুরি করছে। সরকার জ্বালানি তেলের সংকট নেই বলে প্রচার করলেও পেট্রলপাম্পে গিয়ে তেল পাওয়া যায় না। আবার সংকট নেই প্রচার করলেও পরিবহন ব্যয় কমাতে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস করানোর কথা বলেছে। এটা মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধাশূন্য করার আরেকটি পাঁয়তারা।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব কর্মসংস্থান) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল পর্যন্ত অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবেন। তাকে গ্রেড-২ পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা অথবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কোনো কর্মসম্পর্ক বজায় রাখতে পারবেন না। এছাড়া নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলী চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

 

ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এপ্রিলে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। এতে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা। গত মাসে দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। তার মানে, ১২ কেজিতে দাম বেড়েছে ৩৮৭ টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে। এর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুতে ১২ কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। এরপর এলপিজির আমদানি শুল্ক কমানোর পর ২৪ ফেব্রুয়ারি দাম সমন্বয় করে ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা করা হয়।

বিইআরসি বলছে, বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৪৪ টাকা ৪ পয়সা। এই হিসাবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে।

সংস্থাটি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে। অভিযোগ আছে, প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দাম নিচ্ছেন এলপিজি বিক্রেতারা।

সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) দাম প্রতি লিটার ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে দাম ছিল ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, হাম হঠাৎ করে বজ্রপাতের মতো এসে পড়েছে। আমাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। এতোগুলো শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তিনি মর্মাহত।

আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর শিশু হাসপাতালে গিয়ে তিনি এসব কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফের কাছ থেকে সংগ্রহ করা টিকা দিয়ে আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, হামের টিকা সংগ্রহ করার প্রস্তুতি চলছে। টিকা হাতে পেতে ১ মাস সময় লাগবে।

এ সময় পোর্টারদের বেতন, স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবির বিষয়ে দ্রুততম সময়ে বসে সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ১০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ৫ জন হামে আক্রান্ত। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে হামে আক্রান্ত একজন মারা গেছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তার-নার্সসহ পর্যাপ্ত জনবল বাড়ানো প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, রোববার থেকে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা পাবে হামের ভ্যাকসিন। এজন্য দেশজুড়ে বাতিল করা হয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার বা তার নিয়োজিত কোনো সংস্থার কাছ থেকে কোনো চিঠি পায়নি প্রসিকিউশন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি আরো জানান, বিচার চলাকালীন সময়ে পলাতক থাকলে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। চিঠি পাঠানো আদালত অবমাননার শামিল। 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তিনি। 

এর আগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তুলে রায় বাতিল চেয়ে ট্রাইবুনালের ই-মেইলে চিঠি পাঠায় লন্ডনভিত্তিক প্রখ্যাত আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কিংসলি ন্যাপলি এলএলপি। এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়লে প্রসিকিউশন জানায় তারা এমন কোনো চিঠি পাননি। 

এদিন জুলাই আন্দোলনে ১৩ জনকে হত্যা মামলায় সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে ট্রাইবুনালের প্রসিকিউশন। এদিন হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় পুনঃ তদন্ত চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।