বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে স্যামসাং। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত ‘গ্যালাক্সি আনপ্যাকড’ অনুষ্ঠানে গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের আওতায় নতুন তিন মডেলের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন প্রদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটি। ‘গ্যালাক্সি এস২৬’, ‘এস২৬ প্লাস’ ও ‘এস২৬ আলট্রা’ মডেলের স্মার্টফোনগুলো আগামী ১১ মার্চ থেকে বিভিন্ন দেশে পাওয়া গেলেও আগাম ফরমাশ দেওয়া যাবে।

নতুন সিরিজে বড় নকশাগত পরিবর্তনের বদলে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারকেন্দ্রিক উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। তিনটি মডেলেই ব্যবহার করা হয়েছে স্যামসাং–উপযোগী কাস্টম চিপসেট ‘স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ ফর গ্যালাক্সি’। উন্নত প্রসেসিং সক্ষমতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজের গতি বাড়াতে চিপসেটটি বিশেষভাবে অপটিমাইজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গ্যালাক্সি এস২৬–এর প্রারম্ভিক মূল্য ৮৯৯ মার্কিন ডলার, এস২৬ প্লাস ১ হাজার ৯৯ ডলার এবং এস২৬ আলট্রা ১ হাজার ২৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এস২৬ মডেলে এবার আর ১২৮ গিগাবাইট সংস্করণ রাখা হয়নি। ফলে মূল্য গত বছরের তুলনায় ১০০ ডলার বেড়েছে। ফোনগুলো কোবাল্ট ভায়োলেট, স্কাই ব্লু, কালো, সাদা, সিলভার শ্যাডো ও পিংক গোল্ড—এই ছয় রঙে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে সিলভার শ্যাডো ও পিংক গোল্ড কেবল অনলাইন সংস্করণ হিসেবে বিক্রি হবে।

গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরছেন স্যামসাং ইলেকট্রনিকস আমেরিকার সিনিয়র প্রোডাক্ট এবং প্ল্যাটফর্ম স্ট্র্যাটেজি র‍্যাচেল রবার্টস
গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরছেন স্যামসাং ইলেকট্রনিকস আমেরিকার সিনিয়র প্রোডাক্ট এবং প্ল্যাটফর্ম স্ট্র্যাটেজি র‍্যাচেল রবার্টস, রয়টার্স

স্যামসাংয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্যালাক্সি এস২৬–এ রয়েছে ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দা। এস২৬ প্লাসে ৬ দশমিক ৭ ইঞ্চি এবং এস২৬ আলট্রায় ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দা রয়েছে। তিনটি মডেলেই ১ থেকে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত অ্যাডাপটিভ রিফ্রেশ রেট সমর্থন রয়েছে। আলট্রা মডেলে এস পেন ব্যবহারের সুবিধা বজায় রাখা হয়েছে। এস২৬ ও এস২৬ প্লাসে ১২ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ২৫৬ বা ৫১২ গিগাবাইট মেমোরির অপশন রয়েছে। এস২৬ আলট্রা পাওয়া যাবে ১২ বা ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ২৫৬, ৫১২ গিগাবাইট বা ১ টেরাবাইট সংস্করণে। এস২৬ মডেলে ৪ হাজার ৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার, এস২৬ প্লাসে ৪ হাজার ৯০০ এবং এস২৬ আলট্রায় ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। আলট্রা মডেলে প্রথমবারের মতো ৬০ ওয়াট দ্রুত চার্জিং–সুবিধা যুক্ত হয়েছে।

ক্যামেরাব্যবস্থায় আলট্রা মডেলটিকেই সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে স্যামসাং। গ্যালাক্সি এস২৬ ও এস২৬ প্লাসে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ১২ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড লেন্স, ১০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো লেন্স এবং ১২ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা। অন্যদিকে এস২৬ আলট্রায় রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান সেন্সর, ৫০ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড এবং ৫০ ও ১০ মেগাপিক্সেলের দুটি টেলিফটো লেন্স। এতে সর্বোচ্চ ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম সুবিধা পাওয়া যাবে। সেলফির জন্য রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা।

গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজে দুটি ফিচার বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ‘ক্রিয়েটিভ স্টুডিও’ নামের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে ছবি ও ভিডিও সম্পাদনার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুলগুলো একসঙ্গে করা হয়েছে। আগে বিভিন্ন অ্যাপে ছড়িয়ে থাকা সুবিধাগুলো এখন এক জায়গায় ব্যবহারের সুযোগ মিলবে। অন্যটি ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’। এ সুবিধায় সরাসরি সামনে থেকে না দেখলে পর্দা অন্ধকার দেখাবে এমনভাবে ডিসপ্লে প্রযুক্তি নকশা করা হয়েছে। ফলে জনসমাগমস্থলে ফোন ব্যবহার করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের চোখে পড়ার ঝুঁকি কমবে।

এস২৬ আলট্রায় উন্নত কর্নিং গরিলা আর্মার ২ প্রটেকশন গ্লাস, তাপ নিয়ন্ত্রণে নতুন নকশার ভেপার চেম্বার এবং সব এস২৬ কেসে ম্যাগনেটিক কানেকশনের কথা জানিয়েছে স্যামসাং। ক্যামেরা অ্যাপে নতুনভাবে নকশা করা নথি স্ক্যানারও যুক্ত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা বেছে নিতে পারবেন গুগল জেমিনি, স্যামসাং বিক্সবি এবং পারপ্লেক্সিটি।

সূত্র: ম্যাশেবল

আহসান হাবীব

দেশের বাজারে ‘ইনফিনিক্স স্মার্ট ২০’ মডেলের নতুন স্মার্টফোন এনেছে ইনফিনিক্স। ভয়েজপ্রিন্ট নয়েজ রিডাকশন প্রযুক্তির ফোনটি আশপাশের অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমিয়ে ব্যবহারকারীর কণ্ঠ আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারে। ফলে যানজট, বাজার বা গণপরিবহনে থাকা অবস্থায় চারপাশের শব্দ বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৯৯৯ টাকা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইনফিনিক্স বাংলাদেশ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৬.৭৮ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ। ফলে ফোনটির পর্দায় সহজেই ভালো মানের ছবি ও ভিডিও দেখা যায়। মিডিয়াটেক হেলিও জি৮১ অক্টা-কোর প্রসেসরে চলা ফোনটিতে ৪ গিগাবাইট র‍্যাম ও ৬৪ গিগাবাইট ধারণক্ষমতা রয়েছে। মিলিটারি-গ্রেড শক রেজিস্ট্যান্স–সুবিধার ফোনটি প্রায় ৫ ফুট ওপর থেকে পড়ে গেলেও ভাঙে না বা ফোনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

ফোনটিতে আলট্রালিংক ফ্রি কল প্রযুক্তি থাকায় আশপাশে নেটওয়ার্ক না থাকলেও স্বল্প দূরত্বে থাকা একই ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেটে ফোনকল করাসহ বার্তা আদান–প্রদান করা যায়। আইপি৬৪ প্রযুক্তিনির্ভর ফোনটি ভিজলে নষ্ট হয় না, ধুলাও জমে না। ফলে হালকা পানির ছিটা বা ধুলাবালুর মধ্যেও ফোনটির স্পর্শনির্ভর পর্দা ভালোভাবে কাজ করে।

দেশে প্রথম ভার্চুয়াল টেলিকম অপারেটর হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে প্রথমবারের মতো চালু হয়ে গেল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠাটির মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমভিএনও) সিম।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিটিসিএল এমভিএনওর লাইভ পাইলট শুরু হয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই সেবার আওতায় এখন আনলিমিটেড ভয়েস কল, আনলিমিটেড ডেটা এবং কোয়াড-প্লে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই এই এমভিএনও সিম সাধারণ গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিমটি সচল হয়েছে। ভয়েস কল, ডাটা কল, আলাপ টু মোবাইল নেটওয়ার্ক, আলাপ টু আলাপ, জিপন ইন্টিগ্রেশন-এই চারটি ইভেন্টের সফল প্রভিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। কল টেস্টও সফল হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী আরও জানান, বিটিসিএল গুলিস্তান/রমনা কার্যালয়ে সরেজমিন প্রভিশনিং, অ্যাক্টিভেশন ও টেস্ট কল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএল এমভিএনওর লাইভ পাইলট শুরু হবে। এখন এমভিএনও এবং ট্রিপল প্লে নিয়ে কাজ চলছে। এগুলো একসঙ্গেই চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী।

এদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিটিসিএল দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটরের মাধ্যমে আনলিমিটেড কোয়াড-প্লে সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। এই উদ্যোগকে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ও সেবা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৩ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএলের রমনা অফিসে এ সেবার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এমভিএনও মডেলে নিজস্ব মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ছাড়াই আনলিমিটেড মোবাইল সেবা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বিটিসিএল, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহকদের জন্য এই সেবা চালু করছে।

এ সেবার আওতায় গ্রাহকরা আনলিমিটেড ভয়েস কল এবং আনলিমিটেড ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক আইপি কলিং সেবা ‘আলাপ’-ও এই প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জিপন কানেকশন এবং রাউটারসহ আনলিমিটেড ইন্টারনেট এবং জনপ্রিয় ওটিটি কনটেন্ট (নাটক, মুভির) প্ল্যাটফর্ম টফি এই এমভিএনও সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি আনলিমিটেড ভয়েস, আনলিমিটেড ডেটা, আনলিমিটেড ব্রডব্যান্ড ও ডিজিটাল কনটেন্টকে একীভূত করে কোয়াড-প্লে সেবা দেওয়া হবে।

এর আগে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর বিটিসিএলকে পরীক্ষামূলকভাবে এমভিএনও নেটওয়ার্ক চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। আধুনিক এই প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে গ্রাহক সেবায় রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কী এই এমভিএনও

নিজস্ব অবকাঠামো ছাড়া অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে টেলিকমসেবা প্রদানের পদ্ধতিকে বলা হয় ভার্চুয়াল অপারেটর বা এমভিএনও। এই অপারেটরদের নিজস্ব স্পেকট্রাম লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও নেই। তারা অন্যান্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি পাইকারি হারে কিনে গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা বিক্রি করে।

যেসব অপারেটরের বাড়তি নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি আছে অথবা পুরো ফি দিয়ে স্পেকট্রাম লাইসেন্স কেনার সমপরিমাণ গ্রাহক নেই, তারা উদ্বৃত্ত নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি এভাবে বিক্রি করে থাকে। এতে দুই প্রতিষ্ঠানই লাভবান হয়। এমভিএনও প্রতিষ্ঠানগুলোর অপারেটিং ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় কল ও ডেটা ব্যবহারের রেটও কম হয়ে থাকে। পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে এমন এমভিএনও-এর সংযোগ ব্যবহার করলে গ্রাহকেরও মোবাইল নেটওয়ার্কজনিত সমস্যা কম হবে।
এত দিন নিজস্ব নেটওয়ার্ক অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে সেবা দিচ্ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি মোবাইল অপারেটর (এমএনও)। অথচ বিশ্বের অন্য দেশগুলো মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার শুরুর দিকেই এমভিএনও নিয়ে কাজ করেছে। ২০০০ সালের আগস্টে বিশ্বের প্রথম এমভিএনও হিসেবে যাত্রা শুরু করে ডেনমার্কের সনোফোন। ২০০৮ সালের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই চালু হয় ৪০টিরও বেশি এমভিএনও।

এমভিএনওর ধরন

এমভিএনওর রয়েছে চারটি ধরন। ব্র্যান্ডেড রিসেলার এমভিএনও শুধু একটি এমএনও-এর অধীনে কাজ করে, বলা যায় একই প্রতিষ্ঠানের দুটি আলাদা ব্র্যান্ড। ভিন্ন ভিন্ন ডেমোগ্রাফিকের গ্রাহক আকৃষ্ট করার জন্য এ ধরনের এমভিএনও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। থিন এনভিএমও অনেকটাই ব্র্যান্ডেড রিসেলারের মতো, তবে তাদের নিজস্ব কাস্টমার সাপোর্ট সিস্টেম, বিলিং ও ট্যারিফ থাকে। দুই ক্ষেত্রেই মূল অপারেটরের সিম ও নাম্বার সিরিজে সেবা দিয়ে থাকে এসব প্রতিষ্ঠান। মিডিয়াম এমভিএনও চাইলে নিজস্ব ব্র্যান্ডের সিম, নাম্বার এবং ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস বিক্রি করতে পারে। এই তিন ধরনের এমভিএনও সাধারণত একাধিক এমএনওর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে না।
বিটিসিএল কাজ করছে ফুল এমভিএনও হিসেবে। একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক, নিজস্ব সিম, নাম্বার, আলাদা ধরনের সেবার জন্য আলাদা সিম এবং পুরো নিজস্ব ব্র্যান্ডিং ও কাস্টমার সেবা অবকাঠামোর মাধ্যমে কাজ করবে তারা।

গ্রাহকের লাভ

এমভিএনও ব্যবহারে বেশ কয়েকটি বাড়তি সেবা পাবে ব্যবহারকারীরা। একই সংযোগ থেকে ভয়েস কল ও মোবাইল ডেটা ব্যবহারের পাশাপাশি ডেটা কলিং এবং জিপনের মাধ্যমে ইন্টারনেটসেবা ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা থাকায় নেটওয়ার্কজনিত সমস্যাও কম হবে, কভারেজ নিয়ে চিন্তা থাকবে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের এমভিএনও অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পাইকারি মিনিট ও ডেটা প্যাক বিক্রি করে। সেটিও গ্রাহকদের জন্য লাভজনক। বিটিসিএল জানিয়েছে, তারা চেষ্টা করবে গ্রাহকদের সর্বনিম্ন মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেটসেবা দেওয়ার।

 

সিডনি শহরের সব স্রোত যেন আজ মিশে গিয়েছিল স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায়। ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকের সেই ঐতিহাসিক ভেন্যু আরেকবার জেগে উঠল নতুন উন্মাদনায়। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ২১তম নারী এশিয়ান কাপের প্রতীক্ষার ফাইনাল ঘিরে যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছিল পুরো অলিম্পিক পার্ক। কিন্তু স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার হলুদ সমুদ্রের গর্জন থামিয়ে জাপান হাসল শেষ হাসি। জয়ের ব্যবধান ১-০।

৮০ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ। বিকেল থেকেই শহরের নানা প্রান্ত থেকে মানুষের ঢল নেমেছিল অলিম্পিক পার্কে। শহরের আবাসিক এলাকা মিন্টো থেকে ট্রেন ধরতেই বোঝা যাচ্ছিল আজকের দিনটা আলাদা। গ্ল্যানফিল্ড স্টেশনে ট্রেন বদলানোর পর নানা স্টেশন পেরোতে পেরোতে কামরাগুলো যেন হলুদ জার্সির দখলে চলে যায়। দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে এক অস্ট্রেলিয়ান দম্পতির চোখে–মুখে উচ্ছ্বাস আলাদাভাবে চোখ কাড়ে।

দ্বিতীয়বার ট্রেন বদলে লিডকম্ব স্টেশন থেকে মিনিট দশেকের দূরত্বে অলিম্পিক পার্কে পৌঁছাতেই চারদিকে মানুষের ঢল। গ্যালারিতে ঢোকার আগেই আবহ বুঝিয়ে দিচ্ছিল, এটা শুধু একটা ম্যাচ নয়, বড় উৎসবের উপলক্ষও। প্রায় ৯৫ শতাংশ দর্শক অস্ট্রেলিয়ার হলেও নীল জার্সিতে কিছু জাপানি সমর্থকের উপস্থিতিও ছিল নজরকাড়া। প্রেসবক্সে বসে মনে হচ্ছিল, যেন এক বিশাল জনসমুদ্রে ডুবে যাওয়ার মতো অবস্থা। গগনবিদারী চিৎকার, ম্যাচ শুরুর আগের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনেক দিন মনে রাখার মতোই। সব মিলিয়ে পরিবেশ পৌঁছে গিয়েছিল এক অন্য উচ্চতায়।

ম্যাচ শুরুর আগের আনুষ্ঠানিকতা
ম্যাচ শুরুর আগের আনুষ্ঠানিকতা, এএফপি
 

একদিকে জাপান ২০১১ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ২০১৫ সালের রানার্সআপ। ২০১৪ ও ২০১৮ নারী এশিয়ান কাপ জয়ী। অন্যদিকে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ২০২৩ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট, ২০১০ এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন। ইতিহাসের দিক থেকে জাপান এগিয়ে থাকলেও শক্তিতে দুই দল ছিল প্রায় সমানে সমান। এই ফাইনাল ছিল দুই ফুটবল–দর্শনের লড়াইও। জাপানের নিখুঁত পাসিং বনাম অস্ট্রেলিয়ার শক্তি ও গতিনির্ভর খেলা।

অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ ফুটবল দলকে যেমন সকারুস বলা হয়, তেমনি নারী দলের ডাকনাম ‘মাটিল্ডাস’। গ্যালারির সমর্থনে শুরু থেকেই চাঙা হয়ে উঠেছিল সেই মাটিল্ডাসরা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৩৫টির বেশি ম্যাচ খেলা ৩২ বছরের অধিনায়ক স্যাম কার সামনে থেকে আক্রমণ সাজাচ্ছিলেন, যিনি ইংলিশ ক্লাব চেলসির বড় তারকা। আর রক্ষণে দৃঢ় ছিলেন হলুদ জার্সিতে ১৪৫টি ম্যাচ খেলা অ্যালানা কেনেডি। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমিয়ে তোলে লড়াই।

কিন্তু ১৭ মিনিটে গ্যালারি নিস্তব্ধ। জাপানের ফরোয়ার্ড মাইকা হামানো বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার এক অসাধারণ শটে পরাস্ত করেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষককে। এ বছর ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম হটস্পারে ধারে খেলা হামানোর শট গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে দূরের পোস্টে জড়িয়ে যায়। স্টেডিয়াম নীল জার্সির খেলোয়াড়েরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

ফাইনালের একমাত্র গোলটি করার পর  জাপানের ফরোয়ার্ড মাইকা হামানো
ফাইনালের একমাত্র গোলটি করার পর জাপানের ফরোয়ার্ড মাইকা হামানো, এএফপি
 

এই এক গোলই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। তৃতীয়বার এশিয়ান কাপ শিরোপা জেতে জাপান। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফাইনালেও জাপানের কাছে অস্ট্রেলিয়া হেরেছিল ১-০ গোলে। ভিয়েতনাম ও জর্ডানের মাটিতে জাপানের কাছে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া হেরে গিয়েছিল বলে এবারের ফাইনালকে প্রতিশোধের ফাইনাল মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু ২০ বছর পর ঘরের মাঠে নারী এশিয়ান কাপ আয়োজন করে চ্যাম্পিয়নশিপ পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন পূরণ হলো না অস্ট্রেলিয়ার।

দ্বিতীয়ার্ধে মরণকামড় দিয়েও জাপানের রক্ষণদেয়াল ভাঙতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। গোল হতে হতেও হয়নি দু-তিনবার। জাপানের গোলকিপার আয়াকা ইয়ামাশিতা ছিলেন দৃঢ়তার প্রতীক। তাঁর দৃঢ়তা এবং গোটা রক্ষণের চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় সিডনি থেকে মুকুট নিয়ে ফিরছে জাপান। সর্বশেষ ৪টি নারী এশিয়ান কাপের তিনটিই জিতে নিল তারা।

অস্ট্রেলিয়ার সুযোগ কিন্তু কম ছিল না। কেইটলিন ফোর্ড একবার জাপানের গোলকিপারের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে ফাঁকা জাল পেয়েও গোল করতে পারেননি। আরেকবার আর্সেনালের এই ফরোয়ার্ডের শট যায় বাইরে। এই মিসগুলোই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় স্বাগতিকদের জন্য।

শেষ দিকে জাপানকে চেপে ধরেছিল অস্ট্রেলিয়া
শেষ দিকে জাপানকে চেপে ধরেছিল অস্ট্রেলিয়া, এএফপি
 

জাপান পুরো টুর্নামেন্টে ছিল দুর্দান্ত। গ্রুপ পর্বে ভারতকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে, তিন ম্যাচে করেছে ১৭ গোল। সেমিফাইনালে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারায় ৪-১ ব্যবধানে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তর কোরিয়াকে ২-১ এবং সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চীনকে একই ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। কিন্তু ফাইনালের নিজেদের উজাড় করে দিয়েও জাপানের কাছে আটকে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা।

জাপানের ড্যানিশ কোচ নিলস নিলসেন ইতিহাস গড়েছেন প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে দলকে শিরোপা জিতিয়ে। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর দল ছিল অপরাজিত। পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা আর টেকনিক্যাল দক্ষতায় এগিয়ে থেকেই জাপান ছিনিয়ে নিয়েছে শিরোপা। মাঝমাঠে ইউই হাসেগাওয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণে হামানোর নৈপুণ্য ছিল জাপানের মূল শক্তি। গোলরক্ষকের কিছু সেভ ম্যাচটিকে শেষ পর্যন্ত জমিয়ে রেখেছিল।

জাপান ও অস্ট্রেলিয়া এর আগে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল। দুবারই জাপান ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল। এবারও সেই একই স্কোরলাইন। ইতিহাসের যেন পুনরাবৃত্তি হলো। ১২ বছরের মধ্যে তিনটি ফাইনালে একই পরিণতি অস্ট্রেলিয়ার কাছে আক্ষেপ হয়ে থাকবে অনেক দিন।

ম্যাচশেষে জাপানিদের উল্লাস, অস্ট্রেলীয়দের হতাশা
ম্যাচশেষে জাপানিদের উল্লাস, অস্ট্রেলীয়দের হতাশা, এএফপি
 

দক্ষিণ কোরিয়ার রেফারি কিম ইউর শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে শুয়ে পড়লেন অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা। আশাভঙ্গের বেদনায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। অন্যদিকে নীল জার্সিধারীদের উল্লাস। তবে অলিম্পিক পার্কের এই রাত মনে করিয়ে দিল, শিরোপা এক দলের হলেও জয় আসলে ফুটবলেরই।

ম্যাচটা কি বাংলাদেশের মেয়েরা দেখেছেন? জানা নেই। তবে সিডনিতে ঈদের আবহও মিশে গিয়েছিল এই ফুটবল উৎসবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কেউ কেউ আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেছেন ম্যাচটি। যদিও বাংলাদেশ দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে, তবু প্রথমবার এশিয়ার সেরাদের মঞ্চে এসে আফঈদাদের খেলার অভিজ্ঞতা বড় প্রাপ্তি আর শিক্ষাও।

এক মাসের সিয়াম সাধনার পর বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর এই উপলক্ষে ভক্ত-সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।

রোনালদো লিখেছেন, সবাইকে ঈদ মোবারক! আশা করি পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে তোমাদের দিনটি বিশেষভাবে কাটবে। সবার জন্য শান্তি ও সুখ কামনা করছি।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মুসলিম ভক্তের কথা মাথায় রেখে রোনালদোর এই শুভেচ্ছাবার্তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে তার পোস্টে ভক্তরা কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।

বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের খেলছেন রোনালদো। মধ্যপ্রাচ্যে খেলার সুবাদে মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। 

এর আগেও বিভিন্ন উপলক্ষে মুসলিম বিশ্বকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে এই পর্তুগিজ তারকাকে। কেবল মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, ভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেও বিশ্বব্যাপী ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন রোনালদো। যা তাকে ক্রীড়াজগতের বাইরেও এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

 

সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য আজ ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। স্কোয়াডে নেই কোনো নতুন মুখ। দলে ফিরেছেন বিশ্বনাথ ঘোষ, ফাহমিদুল ইসলাম, আরমান ফয়সাল ও মিরাজুল ইসলাম।

‎সর্বশেষ ২০২৪ সালে ৫ সেপ্টেম্বর ভুটানের বিপক্ষে দেশের জার্সিতে খেলেছিলেন বিশ্বনাথ। চোটের সঙ্গে লড়াই শেষে প্রায় দেড় বছর পর জাতীয় দলে ফিরলেন বসুন্ধরা কিংসে খেলা এই ডিফেন্ডার।

‎ফাহমিদুল, আরমান ও মিরাজুল সর্বশেষ গত নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে স্কোয়াডে ছিলেন না। মিরাজুলের অভিষেক হয় ২০২৪ সালে ভুটানের বিপক্ষে। সেটাই দেশের হয়ে তাঁর সর্বশেষ ম্যাচ। আরমান সর্বশেষ খেলেছেন গত বছর এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে হংকংয়ের বিপক্ষে। একই ম্যাচে ছিলেন ফাহমিদুলও। কার্ডের নিষেধাজ্ঞায় ভারতের সঙ্গে ঘরের মাঠে খেলা হয়নি তাঁর।

‎‎বাংলাদেশ স্কোয়াড: গোলকিপার: মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদী হাসান। ‎‎ডিফেন্ডার: তারিক কাজী, রহমত মিয়া, শাকিল আহাদ, আবদুল্লাহ ওমর, জায়ান আহমেদ, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন ‎মিডফিল্ডার: কাজেম শাহ, শেখ মোরছালিন, জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, মোহাম্মদ হৃদয়, শমিত সোম, হামজা চৌধুরী ‎ফরোয়ার্ড: আরমান ফয়সাল, সুমন রেজা, শাহরিয়ার ইমন, ফয়সাল আহমেদ, ফাহামিদুল ইসলাম, মিরাজুল ইসলাম।

৩১ মার্চ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তার আগে ২৬ মার্চ ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে হাভিয়ের কাবরেরার দল। আজ রাতেই জামালদের ভিয়েতনামের বিমান ধরার কথা।

‎‎‎এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ আগেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের। বাছাইপর্বে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে একটি জয় বাংলাদেশের, সেটি গত নভেম্বর ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে। অন্য চার ম্যাচে দুই জয়, দুই ড্র। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৫।

বার্সেলোনা ৭-২ নিউক্যাসল ইউনাইটেড

ম্যাচে তখন ৬১ মিনিট। নিউক্যাসলের পোস্টে গোলকিপার অ্যারন রামসডেলের চোখেমুখে হতাশা। ছয়টি গোল হজম করেছেন, একবারের জন্যও দেয়াল হতে পারেননি। রামসডেলের আসলে একটিবারের জন্যও কিছুই করার ছিল না। বার্সেলোনা সেই ফাঁক রাখেনি।

৭২ মিনিটের পর রামসডেলের হতাশা অ্যান্থনি এলাঙ্গাদের চোখেমুখেও স্পষ্ট হলো। আরেকটি গোল করেছে বার্সা। ক্যাম্প ন্যুর গ্যালারিতে স্বাগতিক সমর্থকেরা কণ্ঠে গানের সুর। সেটা কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার কি না বোঝা গেল না, তবে তাতে কোনো সন্দেহও ছিল না। মানে বার্সার কোয়ার্টার ফাইনাল ততক্ষণে নিশ্চিত।

অথচ পাঁচ গোলের প্রথমার্ধ শেষেও অনিশ্চয়তার দোলাচলে ছিল দুই দল। বার্সা এগিয়ে ছিল ৩-২ গোলে, তবু প্রথমার্ধে তাঁদের এক ইঞ্চি ছাড় দেয়নি নিউক্যাসল। বিরতির পর এডি হাউয়ের দলের কী হলো কে জানে, হজম করে বসল আরও চার গোল!

জোড়া গোল করেন বার্সা স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কি
জোড়া গোল করেন বার্সা স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কিউয়েফা

ঘরের মাঠ সেন্ট জেমস পার্কে প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্রয়ের পর ক্যাম্প ন্যুর ফিরতি লেগে নিউক্যাসলের হারটা তাই প্রথমে দারুণ লড়েও শেষে অসহায় আত্মসমর্পণের মতো। শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার আগে ফিরতি লেগে ইংলিশ ক্লাবটির হারের ব্যবধান ৭-২। দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ গোলের জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল বার্সা।

ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল দারুণ দাপট দেখিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে তারা ২-০ গোলে বায়ার লেভারকুসেনেকে হারিয়েছে। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মিকেল আর্তেতার দল।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় আর্সেনালকে। যদিও বল দখলে ৫৯ শতাংশ সময় এগিয়ে ছিল লেভারকুসেন, তবে কার্যকর আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল স্বাগতিকদের। ২০টি শটের মধ্যে ১৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় তারা, যেখানে লেভারকুসেনের ১০ শটের মধ্যে মাত্র দুটি ছিল অন টার্গেটে।

ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে ডেডলক ভাঙে আর্সেনাল। লিয়েন্দ্রো ট্রোসার্ডের বাড়ানো পাস থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন এবরেশি এজে। এটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার প্রথম গোল। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে যোগ দেওয়ার পর চলতি মৌসুমে এটি তার নবম গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাইস। ৬৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়। এরপর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে লেভারকুসেন, কিন্তু আর্সেনালের দৃঢ় রক্ষণ ভেদ করতে ব্যর্থ হয় তারা।

ফলে ২-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে এবং অ্যাগ্রিগেটে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্সেনাল।

 

শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৪ রান। বাংলাদেশের বোলার ছিলেন রিশাদ হোসেন।

নিজের প্রথম ৬ ওভারে ৫৪ রান দেওয়া এই স্পিনার শেষ ওভারে করলেন সেরা বোলিংটা। কোনো বাউন্ডারি তো হজম করেনইনি, দিয়েছেন মাত্র ২ রান। এমনকি শেষ বলে স্টাম্পড আউট করেছেন শাহিন আফ্রিদিকেও, যিনি আগের ওভারেই মোস্তাফিজকে দুটি ছক্কা মেরেছেন।

শেষের এমন দুর্দান্ত সমাপ্তিতে পাকিস্তানকে ২৭৯ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে ১১ রানে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটের জয় থাকায় বাংলাদেশ তিন ম্যাচের সিরিজটা জিতেছে ২–১ ব্যবধানে।

বাংলাদেশের জয়ের আনন্দ
বাংলাদেশের জয়ের আনন্দ
 

বাংলাদেশের আজকের জয়ের নায়ক দুজন। ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান, বল হাতে তাসকিন আহমেদ। তানজিদের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে চড়ে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রানের পুঁজি গড়ে।

এরপর বল হাতে পাওয়ারপ্লেতেই পাকিস্তানকে বড় ধাক্কা দেন তাসকিন। নিজের প্রথম দুই ওভারে তুলে নেন দুই উইকেট। ইনিংসের প্রথম তিন ওভারে তিন উইকেট হারানো পাকিস্তান সালমান আগার ব্যাটে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে। ৪৮তম ওভারে এই সালমানকে ফিরিয়েই (১০৬ রান) বাংলাদেশের জয়ের পথ পরিষ্কার করেন তাসকিন। এর আগে ফাহিম আশরাফকে ফিরিয়ে ভাঙেন একটি বড় জুটিও। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ৪৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। তবে ম্যাচসেরার স্বীকৃতি উঠেছে স্কোরবোর্ডে ভালো পুঁজি এনে দিতে মূল ভূমিকা রাখা তানজিদই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯০/৫ (তানজিদ ১০৭, হৃদয় ৪৮*, লিটন ৪১, সাইফ ৩৬, নাজমুল ২৭; রউফ ৩/৫২)।
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৭৯ (সালমান ১০৬, মাসুদ ৩৮, আফ্রিদি ৩৭, সামাদ ৩৪; তাসকিন ৪/৪৯, মোস্তাফিজ ৩/৫৪, নাহিদ ২/৬২)।
ফল: বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তানজিদ হাসান।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২–১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য সিরিজ: তানজিদ হাসান ও নাহিদ রানা।
 
 

আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট শুরুর তারিখ ঘোষণা হলেও আপাতত হচ্ছে না নারী বিপিএলের প্রথম আসর। তিন দল নিয়ে ৪ এপ্রিল থেকে টুর্নামেন্টটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। এখন তা আগামী জুলাইয়ে নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আয়োজন করার কথা বলছে বিসিবি।

নারী বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য ইফতেখার রহমান বলেন, ‘ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আমাদেরকে জানিয়েছে, প্যাড-হেলমেটসহ অন্য সরঞ্জাম আনার জন্য তাদের হাতে যথেষ্ট সময় নেই। সব মিলিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নারী বিপিএল পিছিয়ে দেওয়ার।’

তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্ব বিক্রির জন্য দুই দফায় আবেদনের সময় বাড়ায় বিসিবি। ৮ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়ালেও দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করতে পারে বিসিবি। ছেলেদের বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের স্বত্বাধিকার নাবিল গ্রুপ ও চট্টগ্রামের কন্টিনেন্টাল গ্রুপ দল নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ থাকলেও অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিটি চূড়ান্ত করতে পারেনি বিসিবি।

পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছিল, বগুড়া-চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে এ বছরের ১০ থেকে ২১ জুলাই হবে তিন দলের নারী বিপিএল। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সম্ভাব্য ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বিসিবি এই টুর্নামেন্ট পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন সূচিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের পাওয়া সহজ হবে বলেও মনে করে বিসিবি। তারা জানিয়েছে, বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আগামী ১০ জুলাই শুরু হবে নারী বিপিএল। চট্টগ্রাম হয়ে আগামী ২১ জুলাই ঢাকায় হবে নারী বিপিএলের ফাইনাল।

সাইফ হাসানের আউটটা ভুলে যান। ১১৪ রান তাড়া করে জেতার ম্যাচে একটা উইকেট হারানো বিচলিত হওয়ার মতো কিছু নয়। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান আর তিনে নামা নাজমুল হোসেন মিলে কী করলেন দেখলেন তো! ৫০ ওভারের ক্রিকেটকেই যেন বানিয়ে ফেললেন টি–টোয়েন্টি!

জয় যখন দৃষ্টিসীমায়, তখন এমন সাহসী হয়ে ওঠার জন্য বাড়তি কোনো প্রেরণা লাগে না। তবে ইফতারের আগে খেলা শেষ করতেই জয়ের সময়টাকে কমিয়ে আনতে তাড়িত হলেন কি না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা, সেই খোঁজ নেওয়া যেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। তানজিদ–নাজমুলের চার–ছক্কাগুলো ইফতার বিরতির আগেই শেষ করে দিয়েছে খেলা। পাকিস্তানের ৩০.৪ ওভারে করা মাত্র ১১৪ রান বাংলাদেশ টপকে গেছে ১৫.১ ওভারেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে এত বেশি ওভার হাতে রেখে জয় এটাই প্রথম বাংলাদেশের। ৮ উইকেটের জয়ও উইকেটের ব্যবধানে সর্বোচ্চ, তবে পাকিস্তানকে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে হারিয়েছে আগেও।

 

১০ ওভার একসঙ্গে থেকে দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি হয়েছে তানজিদ–নাজমুলের। ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩ বলে ২৭ রান করে নাজমুল আউট হয়ে গেলেও পাঁচ ছক্কা আর সাত বাউন্ডারিতে তানজিদ অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রান করে। দলের ১০৯ রানে নাজমুল আউট হয়ে গেলে শেষাংশে তানজিদকে সঙ্গ দেন লিটন দাস। দুজন মিলে ঠিক ইফতারের মুহুর্তে জয় নিশ্চিত করে শেষ করে দেন খেলা। যদিও জয়সূচক রানটা এসেছে মোহাম্মদ ওয়াসিমের ওয়াইড বল থেকে।

 পাঁচ ছক্কা আর সাত বাউন্ডারিতে তানজিদ (বাঁ থেকে দ্বিতীয়) অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রান করে।
পাঁচ ছক্কা আর সাত বাউন্ডারিতে তানজিদ (বাঁ থেকে দ্বিতীয়) অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রান করে।
 

খেলার শেষটা দিয়ে লেখার শুরু হলো বটে, তবে আসলে খেলার শুরুটাই দিয়েছিল দ্রুত ম্যাচ শেষের বার্তা। শুরু বলতে অবশ্য পাকিস্তান ইনিংসের প্রথম ৯ ওভার নয়। ওই পর্যন্ত কোনো উইকেট হারায়নি শাহীন আফ্রিদির দল, করেছিল ৩৫ রান। নতুন বলে বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান পারেননি পাকিস্তানের ওপেনিং জুটিতে ভাঙন ধরাতে।
কিন্তু দশম ওভারে বোলিংয়ে এসে ইনিংসের ১৮তম ওভার পর্যন্ত আরেক পেসার নাহিদ রানা যে আগুনের গোলা ছুঁড়ে গেলেন মিরপুরের উইকেটে, সেটাই যথেষ্ট হলো পাকিস্তানকে কাঁপিয়ে দিতে।

নিজের প্রথম পাঁচ ওভারের প্রত্যেক ওভারেই একটি করে উইকেট নিয়ে নাহিদ নিয়েছেন ৫ উইকেট। শেষ দুই ওভারে উইকেট পাননি, যদিও সপ্তম ওভারে পেতে পারতেন ফাহিম আশরাফের উইকেটও। তাঁর এলবিডব্লুর আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার, অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও নেননি রিভিউ। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে পরে গেছে, রিভিউ নিলে নাহিদের নামের পাশে যোগ হতে পারত আরও একটি উইকেট।

 

টসে জিতে বোলিং নিয়ে মিরাজ বলেছিলেন, বোলিংই তাঁর মূল শক্তি। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে কিছু উইকেট ফেলে দিতে পারলে ভালো হয়। বোঝাই যাচ্ছে, অধিনায়ক নিজেও তখন কল্পনা করেননি আসলে কী হতে যাচ্ছে।

প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের উইকেট পড়েনি একটিও। তবে এরপরই শুরু ওই ‘নাহিদ শো’র। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মিরাজ বল দেন নাহিদের হাতে। ওভারের শেষ বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে সাহিবজাদা ফারহানের আউটে প্রথম উইকেট পায় বাংলাদেশ। ইনিংসের ১২তম ওভারে নাহিদের দ্বিতীয় শিকার শামিল হোসেন। অভিষিক্ত শামিল অবশ্য আগের ওভারেই জীবন পেয়েছিলেন। নাহিদের শর্ট লেংথের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তিনি।

আরেক ওপেনার মাজ সাদাকাত থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন অন্যপ্রান্তে। নাহিদ সুযোগ দেননি তাঁকেও। ১৪তম ওভারে শর্ট বলে মাজ সাদাকাত পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন সাইফ হাসানের হাতে।

৩ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ
৩ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ
 

৫৫ রানে ৩ উইকেট নেই, বাংলাদেশের হাতে চলে আসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। নাহিদ তাঁর পরের দুই ওভারেও মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমান আগাকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে ছিটকে দেন ম্যাচ থেকেই। পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়াটা হয়ে দাঁড়ায় তখন কেবলই সময়ের ব্যাপার।

নাহিদের ছায়ায় ঢাকা পড়ে গেলেও অধিনায়ক মিরাজও ৩ উইকেট নিয়েছেন ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে। অন্য দুটি উইকেট দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের।

২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০ দলের জন্য আইসিসির মোট প্রাইজমানি ছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। ভারতীয় রুপিতে অঙ্কটা ১২৩ কোটি ৯৫ লাখ রুপি (প্রায় ১৬৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা) প্রায়। ভারত গত পরশু এ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রাইজমানি হিসেবে পায় ৩০ লাখ ডলার। ভারতীয় রুপিতে এই অঙ্কটা প্রায় ২৭ কোটি ৫৪ লাখ রুপি।

সূর্যকুমার যাদবের দল আর্থিক পুরস্কার পাচ্ছে আরও। আজ তাদের জন্য ১৩১ কোটি রুপি (প্রায় ১৭৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা) আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। অর্থাৎ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে আইসিসির মোট প্রাইজমানির চেয়েও বেশি আর্থিক পুরস্কার সূর্যকুমারদের দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিসিসিআই।

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গত পরশু নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে ৯৬ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। প্রথম দল হিসেবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনটি ট্রফি জেতার পাশাপাশি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবার শিরোপাও ধরে রাখল ভারত। পাশাপাশি প্রথম স্বাগতিক দল হিসেবেও তারা চ্যাম্পিয়ন হলো। এ সাফল্য উদ্‌যাপনে বিসিসিআই রীতিমতো ইতিহাসই গড়েছে। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেটে এটাই সবচেয়ে বড় আর্থিক পুরস্কার।

ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত
ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারতএএফপি

বার্বাডোজে ২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে রোহিত শর্মাদের ১২৫ কোটি রুপি অর্থ পুরস্কার দিয়েছিল বিসিসিআই। গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ে ৫৮ কোটি রুপি অর্থ পুরস্কার পেয়েছিলেন ভারতের খেলোয়াড়রা। গত বছর নারী বিশ্বকাপ জয়ে খেলোয়াড়দের ৫১ কোটি রুপি অর্থ পুরস্কার দেয় বিসিসিআই।

বিসিসিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আইসিসি ২০২৬ ছেলেদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে ভারত দলকে ১৩১ কোটি রুপি অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিসিসিআই। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জেতে ভারত। সফলভাবে শিরোপা ধরে রাখার মধ্য দিয়ে এই টুর্নামেন্টে প্রথম দল হিসেবে ছেলেদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফিও ধরে রাখল তারা। পাশাপাশি আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে তিনবার শিরোপা জিতল ভারত, যা এ সংস্করণের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দলগুলোর একটি হিসেবে তাদের অবস্থান আরও শক্ত করল।’