FI TV
ব্রেকিং
সারাদেশ

অনুসন্ধান শেষে আসিফ মাহমুদের অভিযোগ সম্পর্কে বলা যাবে: দুদক সচিব

Rupam Tanchangya মিনিটের পড়া
শেয়ার:
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগ অনুসন্ধানের লক্ষে তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে মন্ত্রণালয়ে এরই মধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ওইসব তথ্য, নথি পাঠাতে বলা হয়েছে। সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত কোন প্রমাণ পাওয়া গেল কিনা সেটি পুরো অনুসন্ধান শেষে বলা যাবে। বুধবার সাবেক ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে কমিশনের চার্জশিট অনুমোদন প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

এর আগে এক ব্রিফিংয়ে দুদক থেকে বলা হয়েছিল, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে। দুদকের এই বক্তব্যের রেশ ধরে আজ এই বিষয়ে সচিবের মন্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। এর জবাবে সচিব বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বরে ব্রিফিংয়ে সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতার যে কথা বলা হয়েছিল সেটি ছিল 'স্লিপ অব টাং' অর্থাৎ অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখ থেকে ফসকে কথাটি বের হয়েছিল। এই ব্যাখ্যা দুদক আগেও দিয়েছিল। আজও একই কথা বলছি আমরা। 

এ নিয়ে সাংবাদিকরা আরও প্রশ্ন করলে, এক পর্যায়ে সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা ও দুর্নীতির আমলযোগ্য তথ্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হয়। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ি সাবেক ওই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুদকে দেওয়া অভিযোগটি ছিল আমলযোগ্য। অর্থাৎ অনুসন্ধানের জন্য আমলযোগ্য। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, দুদকে কোন অভিযোগ এলে প্রথমে কমিশনের যাচাই-বাছাই কমিটি সেটি যাচাই করে থাকে। এতে যদি অনুসন্ধানের মত তথ্য থাকে, প্রতীয়মান হয় তাহলে সেটি অনুসন্ধানের সুপারিশ করে কমিশনে পাঠানো হয়। কমিশন পর্যায়োচনা করে অনুসন্ধান করা অথবা না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগটির অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত এই প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে সাবেক ওই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে দুদক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ না পাওয়া গেলে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দুদকে কোনো অভিযোগ এলে সেটি প্রথমে রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি করা হয়। তারপর আইন অনুযায়ি পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আইনী প্রক্রিয়ার বাইরে কোন অভিযোগ বাদ দেওয়া বা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এন‌সি‌পি) মুখপাত্রের দায়িত্বে আছেন। 

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকাকালে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলী বাণিজ্যের মাধ্যমে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে গত ২ সেপ্টেম্বর। অভিযোগ সম্পর্কে নথিপত্র চেয়ে দুদকে চিঠি পাঠানো হয় পরেরদিন ৩ সেপ্টেম্বর।

শেয়ার: