FI TV
ব্রেকিং
স্বাস্থ্য

বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হামের টিকার আওতায় আসছে ৩৪ লাখ শিশু

Rupam Tanchangya মিনিটের পড়া
শেয়ার:
টিকা


দেশে হামের টিকা না পাওয়া এবং টিকার নির্দিষ্ট বয়সসীমায় পৌঁছা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এসব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। 

সচিবালয়ে গতকাল রোববার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত ছয় মাস পাঁচ দিনে হাম আক্রান্ত ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৭। এর মধ্যে ৯৫৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে এবং ১০১ জন হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। গতকাল এক হাজার ১৪৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দেয়। মোট এক লাখ ৭৯ হাজার ৮১৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর গতকাল পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয় ৮৮ জনের। মোট শনাক্ত ২০ হাজার ৫৬২ জন। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ৪৩০ জন। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে ১৬৭, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৮, চট্টগ্রামে ৭৫, বরিশালে ৫৯, খুলনায় ৪০ এবং রংপুরে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে নিজ দপ্তরে করা সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে একযোগে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। শুধু নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার অপেক্ষায় না থেকে গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে টিকার আওতায় আনা হবে। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন দেশে প্রায় ৫৮ লাখ ডোজ হামের টিকার মজুত আছে। এর বিপরীতে বিশেষ কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন হবে প্রায় ৩৪ লাখ ডোজ।

সাখাওয়াত হোসেন জানান, ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচির তথ্য বিশ্লেষণ করে ৩৪ লাখ শিশুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে প্রায় দুই কোটি ২৩ লাখ শিশুর হিসাব পাওয়া যায়। এর মধ্যে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ দেওয়ার পর আরও প্রায় ৪৩ লাখ শিশু বাদ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে আরও ১৯ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ দেওয়া হয়। অবশিষ্ট প্রায় ২৪ লাখ শিশুর সঙ্গে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা নতুন প্রায় ১০ লাখ শিশুকে যোগ করে ৩৪ লাখের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যার সঠিক হিসাব শতভাগ নির্ভুলভাবে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচির তথ্য ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বিবেচনায় নিয়ে হামের টিকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরও কেউ বাদ পড়লে তাদের খুঁজে টিকা দেওয়া হবে।

বিশেষ কর্মসূচি শুরুর দিন কোনো শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ না হলে তাকে টিকা দেওয়া হবে না। তবে কয়েক দিন পর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে তাকেও টিকার আওতায় আনা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া শিশুদের প্রায় সবাই টিকাবিহীন। বিশেষ করে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার সুযোগ থাকে না। আবার ছয় মাস বয়স পার হওয়ার পরও টিকা না পাওয়ায় কিছু শিশু আক্রান্ত হচ্ছে। কিছু মা-বাবা কাজে থাকায় শিশুকে টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার মতো লোক না থাকায় টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

হামে আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়া হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। অপুষ্টিতে থাকা এবং পর্যাপ্ত বুকের দুধ না পাওয়া শিশুদের মধ্যে এ ধরনের জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন, সিপ্যাপ ও ভেন্টিলেটরের সহায়তা দিতে হয়। দেশে তৈরি স্বল্পমূল্যের সিপ্যাপ ব্যবহার করে বহু শিশুর জীবন রক্ষা পেয়েছে।

হামের জন্য নতুন কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রটোকল নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নিউমোনিয়াসহ জটিলতা দেখা দিলে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। হামে আক্রান্ত রোগীদের বড় একটি অংশ পাঁচ বছরের কম বয়সী। হাসপাতালের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় সবাই টিকাবিহীন। আবার ছয় মাস বয়স পূরণ করার পর প্রতিদিন নতুন শিশু টিকাদানের বয়সসীমায় প্রবেশ করছে। এ কারণে ৩১ অক্টোবর বিশেষ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও বাদ পড়া শিশুদের খুঁজতে কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি নতুন করে টিকার বয়সে আসা শিশুদের ধারাবাহিকভাবে টিকার আওতায় আনতে হবে।

শেয়ার: