FI TV
ব্রেকিং
সারাদেশ

পদত্যাগপত্রে কী লিখলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

Rupam Tanchangya৩ মিনিটের পড়া
শেয়ার:
সংসদ ভবনে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
সংসদ ভবনে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টার ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বৃহস্পতিবার সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলেছেন, তিনি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি ফেরদৌসী আহমেদ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় জাতীয় সংসদের সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩) পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। অতএব, বিনীত প্রার্থনা এই যে আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে পদত্যাগ কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনার সদয় মর্জি হয়।’

পদত্যাগের পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে সংসদ সচিবালয়। শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন হবে বলেও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)

এর আগে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে। এই অবস্থায় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য পদ থেকে তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে মিষ্টির বিরুদ্ধে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবারই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে হয় মিষ্টিকে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের স্পিকারের দপ্তরে যান ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। পাঁচ মিনিট পর ১টা ৪৫ মিনিটে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। বের হওয়ার সময় অপেক্ষমাণ সাংবাদিকরা তার কাছে পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চান। মিষ্টি বলেন, স্পিকার ডেকেছেন। স্পিকারের সাথে কথা বলতে আসছি।

স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মিষ্টি বলেন, ‘তদন্ত হোক। তদন্ততে যা হবে সেটাই হবে। আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, আমি স্পিকারের সাথে কথা বলতে আসছি।’

পরে আবারও পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, সেটাই হবে। এরপর আর কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান মিষ্টি।

বিকেলে সংসদ ভবনে এক ব্রিফিংয়ে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ফেরদৌসী আহমেদ আজ আমার অফিসে এসে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র দিয়ে গিয়েছেন। সংবিধান মোতাবেক পদত্যাগ করা মাত্র তার আসনটি শূন্য হয়ে গেছে। অবিলম্বে আমরা নির্বাচন কমিশনকেও জানিয়ে দেব এবং আজ থেকেই এই পদত্যাগপত্র কার্যকর হলো।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, বিএনপির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির শূন্য হওয়া সংরক্ষিত আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন হবে। আইন অনুযায়ী উপনির্বাচন দিয়ে আসনটি পূরণ করা হবে।

তিনি বলেন, এ শূন্য আসনের উপনির্বাচনের তপশিল শিগগিরিই ঘোষণা করা হবে। একটি আসনের বিপরীতে একাধিক প্রার্থী থাকলে তখন ভোট হবে। একক প্রার্থী থাকলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপি ৩৬টি এবং জামায়াতের জোট থেকে ১৩টি ও স্বতন্ত্র জোট থেকে একটি আসন পায়। গত ৩০ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের গেজেট হয়। আর ৩ মে তারা শপথ নেন। এ হিসাবে পাঁচ মাসের মধ্যে সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

শেয়ার: