জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মৃত্যুবরণকারী নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন

রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরের নিজ গ্রামে বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসার। এ সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়। দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসা। গত ২০ সেপ্টেম্বর মিশনে মোতায়েনকৃত ব্যানএফএমইউ-১১-এ কর্তব্যরত অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। পরে ভারতীয় ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এই নৌসদস্য।
গতকাল রোববার সকালে তাঁর মরদেহ ঢাকার বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে মরদেহ নেওয়া হয় তাঁর পৈতৃক নিবাস রাঙামাটির নানিয়ারচরের রামহরি পাড়ায়। সোমবার তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মহাপুরম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এবং মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নৌবাহিনী প্রধান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানিয়েছেন সমবেদনা। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ট্রোম্যান খীসার অবদানের কথা স্মরণ করে জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে বিশেষ প্রতিনিধি এবং দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত শান্তিরক্ষা মিশনের প্রধানও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর পর প্রয়াত ট্রোম্যান খীসার স্ত্রীর হাতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও জাতিসংঘের পতাকা, ক্যাপ এবং মেডেল তুলে দেওয়া হয়। পরে বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি ও প্রথা অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক সদস্য, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, সহকর্মী, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৮৭ সালের ১৩ জুন রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরের রামহরি পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ট্রোম্যান খীসা। ২০০৬ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে নাবিক হিসেবে যোগ দেন তিনি।